
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে ইসলামাবাদ। সেখানেই দ্বিতীয় দফার ইরান-ইজরায়েল শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। এই আবহেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মূলত পাকিস্তান-এর অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-কে কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। তবে একই সঙ্গে বিষয়টি ঘিরে আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে নয়াদিল্লি-র কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, “বর্তমানে ইরান সরকার দ্বিধাবিভক্ত। এটাই স্বাভাবিক। এই অবস্থায় তাদের নেতৃত্ব একটি ঐক্যবদ্ধ শান্তিপ্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত, উভয়পক্ষে সদার্থক আলোচনা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের উপর হামলা স্থগিত রাখা হচ্ছে।” তবে হরমুজ প্রণালীতে এবং ইরানের উপকূলীয় বন্দরগুলোর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনী “অন্যান্য সকল দিক থেকে প্রস্তুত থাকবে” বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। হরমুজে এই ‘দাদাগিরি’ নিয়েই আপত্তি তুলেছে তেহরান। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মার্কিন শর্তে সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হবে না।
ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি জানিয়েছে, তেহরান মার্কিন (যুদ্ধবিরতি) শর্ত মানবে না। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় শান্তি বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, বৈঠকে যোগ দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। কিন্তু শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “দ্বিতীয় শান্তি বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসমাইলের এই মন্তব্য শান্তি বৈঠকে ইরানের যোগদান আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দু’টি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করে ওয়াশিংটন। এবিষয়ে তিনি বলেন, “আমেরিকার এহেন কার্যকলাপ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তাদের সরকার একটি জঙ্গি সরকার। শুধু তা-ই নয়, তারা জলদস্যুও বটে।” পাশাপাশি, শান্তি আলোচনায় যোগদানে আমেরিকার সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সূত্রের খবর, শান্তি বৈঠকে ইরানের যোগদানে অনীহার অন্যতম কারণ হল হরমুজে মার্কিন অবরোধ।
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, শান্তি বৈঠকে যোগদান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান এখনও কিছু জানায়নি। পাক তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় ইরান প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরান এখনও কিছুই জানায়নি। আমরা অপেক্ষায় আছি। ইরানের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগেও রয়েছি।’
