
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের মুখে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভবানীপুরে ফ্লাইং স্কোয়াডের দায়িত্বে থাকা তিনজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করতে আরও একাধিক নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পুলিশ গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। ভোট রয়েছে ১৫২ টি আসনে। সেই তালিকায় একদিকে উত্তরবঙ্গের সব আসন রয়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি আসনেও ভোট রয়েছে। ফলে ভোটের আগে বিশেষভাবে সতর্ক কমিশন। কিন্তু তার আগেই ‘হাইভোল্টেজ’ ভবানীপুরের তিন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে সরিয়ে দেওয়া হল। সাসপেন্ড করা হয়েছে সুরঞ্জন দাস, সত্যরঞ্জন পাল ও সৌভিক নন্দীকে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনজনের বিরুদ্ধেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠছে।
কমিশন জানাচ্ছে, তিনজনই ভবানীপুরের ফ্লাইং স্কোয়াডের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ উঠছে, গত ১৭ তারিখ রাত ৯টা থেকে ১৮ তারিখ ৭টা পর্যন্ত ডিউটিতে ছিলেন এই তিনজন আধিকারিক। কিন্তু ডিউটির সময় কোনও প্রয়োজন ছাড়াই এই তিন আধিকারিক ভবানীপুর থানার সামনে বসে ছিলেন। কিন্তু আয়-ব্যায় পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের সারপ্রাইজ ভিজিটে পুরো বিষয়টি নজরে চলে আসে। এরপরেই এই সংক্রান্ত অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ে। সেই অনুযায়ী এহেন পদক্ষেপ বলে দাবি।
অন্যদিকে প্রথম দফা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের আট জেলা, যা ইতিমধ্যেই অতি স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, কুচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর এখনও পর্যন্ত এই ছটি জেলাকে বিশেষভাবে নজরে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ ১৫ বছরের ইতিহাস ঘেঁটে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে।
