
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভয়া কাণ্ডের তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুলিশের তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ওই সময় কার নির্দেশে ওই আধিকারিকরা কাজ করেছিলেন বা সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল নাকি অন্য কোনও মন্ত্রীর, সব দিকই তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ওই আইপিএসদের ফোনকল, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সব বের করব। দেখতে হবে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীর কথায় তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন কি না। তবে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিতে চাওয়ার অভিযোগের তদন্ত হবে।”
ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা কথা দিয়েছিলেন, বিজেপি বাংলায় সরকার গড়লে আর জি করে অভয়া মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হবে। একই আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। সেই কথা রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই এই মামলার তদন্তে তৎপর হতে দেখা গেল তাঁকে।
শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন, ‘‘অভয়া কাণ্ডে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে দিয়ে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ আমাদের কানে এসেছিল, নির্যাতিতার মায়ের তরফে, তা হল তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ পুলিশ অফিসার পরিবারকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের এই প্রস্তাব। এটা কারা, কেন বলেছিল, রাজ্য সরকারের কথায় নাকি অন্য কিছু – এসবের তদন্ত করা প্রয়োজন, তদন্ত হবে। আর যাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, সেসব অফিসারদের সাসপেন্ড করে তারপর তদন্ত শুরু করা দরকার। নাহলে তদন্তে স্বচ্ছতা থাকবে না।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলকাতা পুলিশের তৎকালীন তিন আইপিএস অফিসার – বিনীত গোয়েন (বর্তমান এডিজি, আইবি), তৎকালীন ডিসি, সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন ডিসি, নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হল।
