
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:গত এক সপ্তাহ ধরে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিদ্রোহ এবং সম্ভাব্য ভাঙন। বিধানসভার পর এবার সংসদীয় দলেও অসন্তোষের সুর প্রকাশ্যে আসায় জোরদার হয়েছে জল্পনা। কে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাশে থাকছেন আর কে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানান হিসাব-নিকাশ। কয়েকজন সাংসদের অবস্থান স্পষ্ট হলেও অনেকের ভূমিকাই ছিল ধোঁয়াশায় ঢাকা। এরই মধ্যে সামনে এসেছে বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। যদিও চিঠিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি, ওই চিঠিই কি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র দপ্তরে জমা পড়েছিল, সে বিষয়েও এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
সংবাদ সংস্থা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চিঠিতে প্রত্যাশিত মতোই সই রয়েছে— কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদারের মতো তৃণমূল সাংসদের। এ ছাড়াও যাঁরা সই করেছেন তাঁরা হলেন—ডাঃ শর্মিলা সরকার
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
জগদীশ বর্মা বসুনিয়া
অসিতকুমার মাল
অরূপ চক্রবর্তী
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
সায়নী ঘোষ
খলিলুর রহমান
আবু তাহের খান
ইউসুফ পাঠান
মিতালি বাগ
মালা রায়
কালীপদ সোরেন
দীপক অধিকারী (দেব)
জুন মালিয়া
পার্থ ভৌমিক
এই তালিকায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নাম হলো ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব)-এর। ৮ জুন বিজেপির ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী শিবিরের মিটিংয়ে দেবের উপস্থিতির খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে তার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব দাবি করেছিলেন, লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের পাশে তিনি নেই। তিনি বলেছিলেন,‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসা সারা জীবন থাকবে। যত দিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি। তৃণমূলের সাংসদ হয়ে এসেছি। আমারও দায়িত্ব মানুষের স্বপ্নপূরণ করা। তবে নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না।’ তবে দেব নতুন তৃণমূল বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনি স্পষ্ট করেনি। এর পরেই এ দিন সামনে আসা ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের পাঠানো চিঠিতে দেখা গেল তাঁর সইও।
সূত্রের খবর, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সাংসদদের সই সম্বলিত এই চিঠি লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ঘরে জমা পড়েছে। সেই চিঠিতে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন, তিনি লোকসভার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক। সেই ক্ষমতাবলে বাকি সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে।
তবে লোকসভার পাটিগণিতের ভিত্তিতে এই ১৯ সংখ্যাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলত্যাগী আইনের ফাঁক গলে নিজেদের পৃথক ব্লক হিসেবে অধ্যক্ষের কাছে স্বীকৃতি আদায় করতে দরকার দলের মোট সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন। সেই ম্যাজিক নম্বর ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছেন তৃণমূলে 'রেবেল' সাংসদরা। বিদ্রোহীদের দাবি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেছিলেন, ‘আমরা জনাদেশ মেনে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করি যে আমাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথচলা এনডিএ-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সেই কারণেই লোকসভার স্পিকারকে জানানো হয়েছে যে আমরা এনডিএ-র অংশ হতে চাই।’ অতএব লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়া ছেড়ে কারা আলাদা ঘর বাঁধতে চাইছেন, তা স্পষ্ট এই চিঠির সইতেই।
According to Sources here is the list of 19 out of 20 TMC breakaway MPs that sent their names to the Lok Sabha Speaker’s Office on May 18th.
1. Kakoli Ghosh Dastidar
2. Satabdi Roy
3. B
