
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ তীব্রতর হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের। ওমান উপসাগরে সাম্প্রতিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনার পর পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নয়াদিল্লি। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি করেছে কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপরিবহন মন্ত্রক।সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ওমান উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং আশপাশের সংবেদনশীল জলসীমায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজ সংস্থাগুলিকেও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে বন্দর, জাহাজ ও জলপরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের সময়মতো সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিদেশমন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, ‘বন্ধু’ দেশগুলির উপকূলীয় প্রশাসন, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা, নাবিক কল্যাণ সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রাখা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল বলেন, “সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রতিটি ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এক বিবৃতিতে বন্দর, জাহাজ ও জলপরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের সময়মতো সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিদেশমন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, ‘বন্ধু’ দেশগুলির উপকূলীয় প্রশাসন, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা, নাবিক কল্যাণ সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রাখা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল বলেন, “সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রতিটি ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “গত কয়েকদিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নাবিকদের কল্যাণ ও মঙ্গলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই আমরা। এই বিষয়টিতে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
রণধীর আরও বলেন, “গতকালই ওমান উপকূলের অদূরে একটি জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলাম আমরা, যাতে দুর্ভাগ্যবশত তিনজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। জোরালো প্রতিবাদ জানানোর জন্য আমরা ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার দূতকে তলব করেছিলাম। এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” যোগ করেন, আমরা বারবার আলোচনা এবং কূটনীতিরর উপর জোর দিয়েছি। যাতে এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।”বুধবার ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে এমটি জলবীর নামক জাহাজে হামলা হয়। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী। বাণিজ্যতরীটিতে মোট ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। পরে তাঁদের সকলকে উদ্ধার করা হয়। এই হামলার কয়েকঘন্টা পরেই দায় স্বীকার করে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্ট কম) তাঁদের এক্স হ্যান্ডলে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে জলপথে অবরোধ রয়েছে। সেই অবরোধ লঙ্ঘনের ‘শাস্তি’ ভুগতে হয়েছে ভারতীয় নাগরিক বোঝাই জাহাজকে। ওমান উপসাগরে বাণিজ্যতরীতে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে।বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে এই ধরনের হামলার ঘটনাকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশিকাও দিয়েছে সরকার। জাহাজ ও জলপরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের সময়মতো সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বিদেশমন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, ‘বন্ধু’ দেশগুলির উপকূলীয় প্রশাসন, জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা, নাবিক কল্যাণ সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তবে ‘বন্ধু’ আমেরিকাকে মোটেই ছাড় দেবে না ভারত। সেকারণেই লাগাতার হামলার পর মার্কিন দূতকে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অন্তত ১৩টি জাহাজে ৬২২ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত। তবে এই তলব ঘিরে মার্কিন দূতের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
