
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটের আগে দুই রাজ্যে সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল কংগ্রেস। পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে প্রদেশ সভাপতি বদল করা হয়েছে। পাঞ্জাবে অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংকে সরিয়ে নতুন প্রদেশ সভাপতি করা হয়েছে হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক পরগত সিংকে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে প্রদেশ সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে অজয় রাইকে। লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বারাণসী কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তাঁর জায়গায় উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের নতুন প্রদেশ সভাপতি হয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারির মেয়ে আরাধনা মিশ্র মোনা। ভোটমুখী দুই রাজ্যে এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
ভোটের আগে পাঞ্জাবের গোষ্ঠীকোন্দল সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রেখেছিল কংগ্রেসকে। এতদিন সে রাজ্যে প্রদেশ সভাপতি ছিলেন জাট শিখ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং। কিন্তু পাঞ্জাব কংগ্রেসের একটা বড় অংশ তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনে লড়তে অস্বীকার করেন। ওই অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি। পাঞ্জাবের অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই চাইছিলেন ওয়ারিংকে সরানো হয়। মাসখানেক আগে পাঞ্জাবে দলের পর্যবেক্ষক হিসাবে আনা হয় শচীন পাইলটকে। তাঁর পরামর্শ মতোই ওয়ারিংকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁর বদলে প্রদেশ সভাপতি হিসাবে এলেন পরগত সিং।
পরগত সিং প্রাক্তন হকি অধিনায়ক। কংগ্রেসে আছেন দীর্ঘদিন। তিনিও ওয়ারিংয়ের মতো জাঠ শিখ। তবে চরণজিৎ সিং চান্নির ঘনিষ্ঠ। মূলত চান্নিকে খুশি করতেই প্রাক্তন হকি অধিনায়ককে প্রদেশ সভাপতি পদে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাহুল গান্ধীরা। আসলে পাঞ্জাবের শিখদের প্রায় ৩০ শতাংশ দলিত। আবার জাঠেরা ১২-১৫ শতাংশ হলেও রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী। চান্নি-পরগত জুটিকে সামনে এনে দুই শিবিরকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করল কংগ্রেস।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস নিজেদের পুরনো ভোটব্যাঙ্ক উদ্ধার করার আশায়। যোগী রাজ্যে এতদিন কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন ভুমিহার অজয় রাই। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভালো লড়াইয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সমস্যা হল অজয় রাইয়ের অতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভাবমূর্তি। যার ফলে মুসলিম ভোটাররা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দিকে ঝুঁকে যেতে পারেন, এই আশঙ্কা ছিল হাত শিবিরের অন্দরে। তাই কংগ্রেস ভেবেচিন্তে প্রদেশ সভানেত্রী হিসাব আনল আরাধনা মিশ্র মোনাকে। তিনি ব্রাহ্মণ। সেই সঙ্গে কার্যকরী সভাপতি পদে আনা হয়েছে রাজ্যের প্রভাবশালী মুসলিম নেতা ইমরান মাসুদকে। সবটাই দলের পুরনো ব্রাহ্মণ-মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা।
