
নয়াদিল্লি, ৬ জুন : ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র যন্তর মন্তরে ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে প্রায় ৪০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর যন্তর মন্তর এলাকায় সমর্থকদের জমায়েত শুরু হতেই মধ্য দিল্লি সহ একাধিক এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রধান রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল এবং দিল্লির বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যানবাহনে কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা। পাশাপাশি রিজার্ভ ফোর্সকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের আশপাশেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চ সব জেলার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও কড়া পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। এছাড়াও যন্তর মন্তরের দিকে যান চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ক্যাব অ্যাগ্রিগেটর সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রাখা হয়েছে।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক দিল্লিতে পৌঁছে সরাসরি যন্তর মন্তর পৌঁছান, যেখানে নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনও সমস্যা যাতে না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং প্রতিটি গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ শুরু হয়েছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রতিবাদ হিসেবে, যা পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমর্থন পেয়ে একটি সংগঠিত ডিজিটাল আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
