
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে বেশি করে রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখেন। পরে প্রয়োজনমতো সেই খাবার বের করে মাইক্রোওয়েভ বা গ্যাসে গরম করে খাওয়ার অভ্যাসও এখন বেশ সাধারণ। এতে সময় বাঁচে ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই অভ্যাসে খাবারের স্বাদ যেমন কমে যেতে পারে, তেমনই কমে যেতে পারে তার পুষ্টিগুণও।
পুষ্টিবিদদের মতে, খাবার দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা বা বারবার গরম করার ফলে খাবারের ভেতরে থাকা কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সবজি, ডাল বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বারবার গরম করলে তার গুণগত মান অনেকটাই কমে যায়। তবে সব সমস্যার মূল কারণ ফ্রিজে রাখা নয়, বরং খাবার গরম করার সময় কিছু সাধারণ ভুল। অনেকেই একই খাবার বারবার গরম করেন, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ধরে মাইক্রোওয়েভে রাখেন। এর ফলে খাবারের স্বাদ, গন্ধ এবং পুষ্টি—সবই ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
* ফ্রিজে নানা ধরনের খাবার রাখা থাকে। তা হতে পারে ভাত, ডাল, পিৎজা, গ্রিলড চিকেন কিংবা পাস্তা। আবার ফ্রিজে অনেক সময় স্ট্যু-ও থাকে। সবরকম খাবার একই পদ্ধতিতে গরম করেন অনেকে। তাতেই নষ্ট হয় স্বাদ। তার ফলে মাইক্রোওয়েভে ভাত গরম করার পর অনেক সময় শক্ত হয়ে যায়। পাস্তার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় একইরকম।
* অনেক সময় ফ্রিজ থেকে বের করেই খাবার গরম করেন কেউ কেউ। তার ফলে স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণ দুই-ই নষ্ট হয়। ভুলেও এই কাজ করবেন না। পরিবর্তে খাবার গরমের ১০-১৫ মিনিট আগে ফ্রিজ থেকে বের করুন। ঠান্ডা কমে গেলে মাইক্রোওয়েভে দিন। তাতেই একেবারে প্রথমবার রান্নার মতো স্বাদ পাবেন।
* সব খাবার একইরকম হিটে (মাইক্রোওয়েভের ক্ষেত্রে) গরম করবেন না। বিশেষত গ্যাসের ক্ষেত্রে হালকা আঁচে ফ্রিজের খাবার গরম করুন। খুব বেশি হলে মাঝারি আঁচ দিতে পারেন। তবে বেশি আঁচে গরম করবেন না। তাতে স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণ দুটিই নষ্ট হয়।
* অনেকেই খাবার গরমের সময় নাড়াচাড়া করেন না। তার ফলে কিছুটা অংশ হালকা গরম। কিছুটা অংশ বেশি গরম হয়ে যায়। তাই এটি খাবার গরমের সঠিক পদ্ধতি নয়। পরিবর্তে নাড়াচাড়া করে পুরো খাবার গরম করুন। তাতেই খাবার খেতে ভালো লাগবে। বজায় থাকবে পুষ্টিগুণও।
* বারবার করে ফ্রিজে থাকা খাবার গরম করবেন না। যতটুকু দরকার ততটুকু ফ্রিজ থেকে বের করুন। সেটুকুই গরম করুন। আর সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিন। নইলে নষ্ট হবে স্বাদ।
এই কৌশল অবলম্বন করলেই খাবার থাকবে একবারে প্রথমবার রান্নার মতো। রসনাতৃপ্তি যেমন হবে। তেমনই আবার স্বাস্থ্যগুণও থাকবে একইরকম।
