
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের মদতে জঙ্গি হামিম মণ্ডল পুলিশের উপর অস্ত্র নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করছিল। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হানিট্র্যাপের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ। অভিযোগ, পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টির নেতৃত্বাধীন জঙ্গি চক্রের নির্দেশে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। সেই কাজে ধৃত হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা সরকারের ভূমিকা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দাদের কাছে খবর, হামিম মণ্ডল শেহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থান বা টিটিএইচের সদস্যও ছিল। এই বছরের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে পাঞ্জাবে পুলিশ আধিকারিকদের হত্যা করে টিটিএএইচ। এবার কলকাতা বা এই রাজ্যে একই ধাঁচে পুলিশকর্তা বা আধিকারিকের উপর হামলা চালিয়ে তাঁদের খুনের ছক কষা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। কয়েকজন পুলিশকর্তা বা আধিকারিককে টার্গেট করতে শুরু করেছিল তারা। নিজেদের প্রচার থেকে শুরু করে হামলা বা নাশকতার জন্য পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা খরচ করে পাক চর সংস্থা আইএসআই। শেহজাদ ভাট্টি ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীদের দিয়েই এই নাশকতা বা হামলার ছক কষা হয়। দেখা গিয়েছে, শুধু কয়েকটি দেশবিরোধী পোস্টার লাগাতে জঙ্গিরা একেকজনের পিছনে খরচ করেছে পাঁচ হাজার টাকা করে। আবার হামলার জন্য তিন লাখ টাকা করেও খরচ করেছে তারা। পুলিশের উপর হামলার নির্দেশ ও কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করা হবে, সেই ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ার হ্যান্ডেলে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল পাকিস্তান থেকে।
উল্লেখ্য, তদন্তে জানা গিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর উপরও অস্ত্র নিয়ে হামলার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। কী পদ্ধতিতে ও কোন রুটে হামলা চালানো যেতে পারে, তার একটি খসড়াও তৈরি করে জঙ্গিরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই প্রাথমিক খসড়া এই রাজ্য থেকে পাঠানো হয় পাকিস্তানে হামিমদের হ্যান্ডলারদের কাছে। তারাও সেই খসড়া দেখে মন্তব্য করে সম্ভাব্য রুটও পাঠায়। সেই রুটে রেইকি করা হয়েছিল কি না, সেই তথ্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। হামিমের মোবাইল ঘেঁটে এই ব্যাপারে গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য এসেছে।
গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই নাশকতার কাজে হামিম মণ্ডল একা নয়, সোশাল মিডিয়ায় আরও কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিল পাকিস্তানের হ্যান্ডলার রানা, উজায়ের, আবিদ জাঠ, হমার। তাদের দিয়ে আলাদাভাবেও নাশকতার কাজ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। ইতিমধ্যে অসম, রাজস্থান, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলায় টিটিএইচের একাধিক মডিউল তৈরির ছক কষা হয়। তার জন্য হামিম পাকিস্তানের নির্দেশে কয়েকটি জায়গায় বৈঠকও করে। অস্ত্র নিয়ে নাশকতার জন্য হামিম কিছু দুষ্কৃতীকেও কাজে লাগানোর ছক কষছিল। তহবিল ও অস্ত্র সংগ্রহের জন্য রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় স্লিপার সেলও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
