
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: স্টারলিঙ্ককে ভারতে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্ক। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “আম্বানি কি ভারতের আসল মালিক?” গত ২৪ ঘণ্টায় টেসলার কর্তার এই সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক মহল থেকে নেটদুনিয়া, সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রে মাস্কের এই মন্তব্য। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুলে মার্কিন ধনকুবেরকে পাল্টা বার্তা দিলেন অভিনেতা তথা রাজনীতিক কমল হাসান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “কোনও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভারতের নীতি নির্ধারণ করবে না।”
এলন মাস্কের দাবি, ‘দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় বাজারে স্টারলিঙ্ককে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, কিছু গোষ্ঠী সেদেশে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।’ আরেক পোস্টে মার্কিন ধনকুবের বলেন, ‘স্টারলিঙ্ক ভারতের সেই মানুষদের জন্য উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করবে, যাঁরা চড়া দামে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করতে পারেন না।’ এরপর আরেকটি পোস্ট রিটুইট করেন মাস্ক। যেখানে অনিরুদ্ধ মালপানি নামে জনৈক এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারত সরকার নাগরিকদের চেয়ে সুবিধাভোগী পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি আগ্রহী।’ সেই পোস্ট শেয়ার করে টেসলা কর্তার মন্তব্য, ‘১৬৫টি দেশে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে ভারত সরকারের প্রত্যেকটি নিয়ম মেনে চলেছে। তা সত্ত্বেও কেন লাইসেন্স পেলাম না? তাহলে কি ভারতের আসল বস আম্বানিই?’ মাস্কের এহেন পোস্টেই নেটভুবনে রীতিমতো ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। এমন আবহেই মাস্ককে ‘স্বার্থান্বেষী’ তোপ দেগে কমল হাসানের খোঁচা, ‘কোনও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভারতের নীতি নির্ধারণ করবে না।’
এক দীর্ঘ পোস্টে কমল হাসানের মত, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কার্যকর ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক— উভয় সংস্থার প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানানো উচিত। তবে শুধু সংযোগের সুযোগ তৈরি করলেই হবে না। পরিষেবার মাসিক খরচ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির দাম অত্যধিক হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে। সেই সূত্র ধরেই মাক্কাল নিধি মাইয়াম প্রধান বলেন, “ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যা ডিজিটাল বিভাজন দূর করার পাশাপাশি নতুন কোনও বিভাজন তৈরি করবে না।” পরিষেবার সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। কমলের মতে, “নেটওয়ার্ক ও স্পেকট্রাম কেবল বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, এগুলি দেশের কৌশলগত পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত বিধিনিষেধ ও সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না।” শুধু তাই নয়। পোস্টের একেবারে শেষে এলন মাস্ককে কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি। টেসলা কর্তার উদ্দেশে দক্ষিণী সুপারস্টার রাজনীতিকের মন্তব্য, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ, কোনও উপনিবেশ নয়। আমাদের দেশ গোটা বিশ্বকে স্বাগত জানায়। কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ঠিক করবেন শুধুমাত্র ভারতীয়রাই। পশ্চিমের কোনও স্বার্থান্বেষী মহল, তাদের দ্বিমুখী নীতি কিংবা কোনও ধনকুবের— সে তিনি ভারতীয় হোন বা আমেরিকান— কেউই ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারেন না।”
