
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই সিউড়িতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার পর থেকেই বীরভূমের এই তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার মহালয়ার আগে অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। তাঁর জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে সশস্ত্র সরকারি দেহরক্ষী। ফলে এবার থেকে রাজ্য সরকারের তরফে নিরাপত্তা পাবেন কেষ্ট মণ্ডল।
আজ, শুক্রবার সিউড়ি দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। কিন্তু পুরনো একটি মামলায় ব্যস্ততা থাকায় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেজন্য এদিন আর দলীয় কার্যালয়ে যাবেন না তিনি। এদিনই দেহরক্ষী পৌঁছে গিয়েছেন বলে খবর। অনুব্রত মণ্ডল বলেন,” বেসরকারি দুটি নিরাপত্তা দেহরক্ষী রয়েছে। আজ সকাল থেকেই একজন দেহরক্ষী দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে।” এ বিষয়ে জেলা পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে বুধবার ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার সিউড়ির পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন অনুব্রত। সিউড়ি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের কাছে ওই তৃণমূলের পার্টি অফিস। মূলত অবস্থা খতিয়ে দেখে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলাই ছিল মূল বিষয়। সেসময় আচমকা তিন যুবক মোটা গাছের ডাল, লাঠি হাতে পার্টি অফিসের ভিতরে হানা দেয়। অনুব্রতের সামনেই ভাঙচুর চলে। এসি থেকে কাচের জানলা, টেবিল, চেয়ারে ভাঙচুর চালায় তাঁরা। অনুব্রত মণ্ডলের সামনে থাকা কাচের টেবিলেও ভাঙচুর চালায় ৩ জন যুবক। অনুব্রতকে মারধর করা না হলেও, তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পরই ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তৃণমূল আমলে রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা পেতেন অনুব্রত। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। অনুব্রত ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিল কেবল। হামলার পর পুলিশ ভ্যান তাঁকে এসকর্ট করে বোলপুরের দিকে নিয়ে যায়। এবার ফের রাজ্য সরকারের তরফে সশস্ত্র একজন দেহরক্ষী দেওয়া হল। যদিও এ প্রসঙ্গে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন,”উনি নাটকীয়ভাবে দলীয় কার্যালয়ে কিছুদিন আগে বিক্ষোভের স্ক্রিপ্ট সাজিয়ে ছিলেন। ৪ তারিখে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের কোণঠাসা। তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে সেটা পুলিশ বলতে পারবে। তবে নিরাপত্তা পেলেন অথবা না পেলেন কোন কিছুই মানুষের কাছে কোনো গুরুত্ব নেই।”
