
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের রামপুরহাট-২ ব্লক। তারাপীঠ থানার অন্তর্গত বুধিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন প্রধান নির্বাচন ঘিরে আচমকাই শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি। ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ২৪ আসনের বুধিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির দখলে রয়েছে ৯টি আসন। বাকি ১৫টি আসন রয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস এবং নির্দলদের দখলে। বেশ কিছুদিন আগেই পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার নতুন প্রধান নির্বাচনের কথা ছিল। বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য সকাল থেকেই এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে সেই নিরাপত্তার মধ্যেই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় বোমাবাজি। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। তবে কারা এই বোমাবাজির ঘটনায় জড়িত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিজেপির অভিযোগ, সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একের পর এক বোমা ফেলা হয়। আতঙ্কে বিজেপির মহিলা সদস্যরা পঞ্চায়েতে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই একতরফাভাবে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ বিজেপির। জানা গিয়েছে, বোমাবাজির পর নয়জন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য এখনও পর্যন্ত পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছাতে পারেননি। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, তাঁরা পঞ্চায়েত এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও বোমাবাজির কারণে তাঁরা ফিরে যায়। তবে ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত অফিসের কক্ষে আগেই পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলের ১৫ সদস্য।
এদিকে বোমাবাজির ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বোর্ড গঠনের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কি না সেদিকে নজর রয়েছে। এর আগেও গত ২৭ আগস্ট নির্বাচনের কথা ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয় প্রশাসন।
