
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের একাধিক শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই ঘটনার জেরে এবার ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে, আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল মুম্বই পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই তিনজনের পাশাপাশি আরও প্রায় ৪০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবারের বিক্ষোভের ঘটনায় ঠিক কী হয়েছিল এবং কারা কী ভাবে যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে শিবাজি পার্কে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন দীপকে। কিন্তু পুলিশ তা দিতে অস্বীকার করে। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, সিজেপি-র তরফ থেকে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে। এরপরই গত শুক্রবার মুম্বইতে বিক্ষোভ দেখায় ‘আরশোলা’রা। তবে সেখানে কাউকেই আটক করা হয়নি। কিন্তু দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে আটক করা হয় প্রায় ৭০০ জনকে। মূলত নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে শনিবার মুম্বই পুলিশ জানায়, বেআইনি জমায়েত এবং নির্দেশ অমান্য করায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র সংশ্লিষ্ট ধারায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অন্যদিকে, এফআইআর দায়ের হওয়া সত্ত্বেও মুম্বই পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দীপকে। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সহযোগিতার জন্য মুম্বই পুলিশকে ধন্যবাদ। কর্তব্যরত সকল পুলিশকর্মীকে স্যালুট! জয় হিন্দ।’ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দীপকে দিল্লি পুলিশকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। ‘ককরোচ’ নেতা লেখেন, ‘দিল্লি পুলিশ, আপনারা মুম্বই পুলিশের কাছ থেকে কিছু শিখুন।’
এদিকে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘আরশোলা’রা। সমাজমাধ্যমে দীপকের বার্তা, “জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে গোটা দেশের আরশোলা বাহিনী মিছিল করে দিল্লি যাবে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাবে তারা। দিল্লি পুলিশ যদি আমাদের আটকানোর চেষ্টা করে, যেখানে আটকাবে, সেটাই হয়ে উঠবে আমাদের যন্তর মন্তর। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ। আমরা মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই চলব। আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যাঁরা চান, এমন প্রতিটি নাগরিকেরই এতে শামিল হওয়া উচিত।”
