
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পাঁচ বছর পর সেই পুরনো ঘটনা নিয়ে ফের মুখ খুললেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে ওই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার যে দাবি করা হয়েছিল, তা সঠিক নয়। শনিবার সকালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের একটি রিপোর্টও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে ফের তদন্তের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষও করেন শুভেন্দু। তাঁর প্রশ্ন, “মার্চের ১০ তারিখ পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস পালন করলে কেমন হয়?”
আজ, রবিবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের শেষপ্রচার। আগামী ৬ তারিখ উপনির্বাচন। রবিবাসরীয় সকাল থেকে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত মিছিল হয়। হাজার পাঁচ-ছয় মানুষ মিছিলে সমবেত হয়েছেন বলে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন। মিছিলের সামনেই হেঁটেছেন শুভেন্দু। সেখানেই জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শুভেন্দু ফের মমতাকে কটাক্ষ করেছেন। ২০২১ সালের ১০ মার্চ ভোটের প্রচারে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন। তাঁর উপর বিজেপি নন্দীগ্রামে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর পা ঘটনায় ভেঙে যায়, সেই দাবিও করা হয়েছিল। পায়ে প্লাস্টার করে হুইল চেয়ারে বসে মমতা ভোটের প্রচার করেছিলেন। ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে’, সেই স্লোগানও উঠেছিল বঙ্গ রাজনীতিতে।
কিন্তু সেদিনের ঘটনাকে এবার মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, উপনির্বাচন মিটলেই ওই ঘটনার তদন্ত হবে। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে ঘোষণা করেছেন। এদিন মিছিল থেকে সেই প্রসঙ্গেই খোঁচা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মার্চের ১০ তারিখ ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ পালন করলে কেমন হয়? সেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যাপারে আগাগোড়া প্রত্যয়ী মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, “যত বেশি ভোট পড়বে, তত জয়ের ব্যবধান বাড়বে। নন্দীগ্রামে ৭২ হাজার সংখ্যালঘু রয়েছে। হাজারের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ এদিনও মিছিলে হাঁটছেন।” সংখ্যালঘুরা এবার নন্দীগ্রামে বিজেপিকেই সমর্থন করবেন। এমনই আশা করছেন তিনি।
