
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন। এ দিন নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব।” তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকার বার্তাই দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। হুমায়ুনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, “আইন সবার জন্য সমান। ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ঘোরাফেরা করা যায় না। নওদার বিধায়ক আইন ভেঙেছেন, তাই গ্রেফতার হয়েছেন।”
এদিন সকাল ১০ টা বেজে ৪৫ মিনিট নাগাদ ভোট দেওয়ার জন্য শান্তিকুঞ্জ থেকে বের হন শুভেন্দু অধিকারী। কনভয় থেকে নেমে টোটো চড়ে পৌঁছন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। ভোট দেওয়ার পর বুথে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এরপরই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উপনির্বাচনে সাধারণত কম ভোট পড়ে। নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী, সরকারি নিরাপত্তা পাই। আইন সকলের মেনে চলা উচিত। আমি ভোট দেওয়ার পর ভাড়া ঘরে থাকতে পারি। বুথের বাইরে যাওয়া, প্রচার করার সুযোগ নেই। আমি সেসব করব না।” এরপরই শুভেন্দু বলেন, “আমার বিশ্বাস এবারও রেকর্ড ভোটে জিতবে বিজেপি।” বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুটো আসনেই জমিতেছিলেন শুভেন্দু। তবে নিয়ম অনুযায়ী, একটি আসন ছাড়তেই হতো। তাই নন্দীগ্রামই ছেড়ে দেন তিনি। তা নিয়ে এলাকাবাসীরা খানিকটা দুঃখও পেয়েছেন। আগে বহুবার শুভেন্দু বলেছেন, তিনি সবসময় নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে আছেন। এদিন ফের তাঁর অঙ্গীকার, ‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব।’
ভবানীপুর কেন ছাড়লেন না, এদিন তা ফের ব্যাখ্য়া করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভবানীপুর ছাড়লে একজন ফের সেখানে লড়তেন। ওয়াকিবহল মহলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাই বললেন তিনি। এদিকে এদিন সকালে রেজিনগরে পুলিশকে হুমকি, সমর্থকদের মুগুর নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান ও প্রার্থী না হয়েও বুথে ঢুকে উত্তেজনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। সেই প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, নওদার বিধায়ক নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছিলেন। আইন ভাঙার কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তাঁর সাফ কথা, আইন সকলের জন্য সমান। তাই তিনিও আজ বুথ চত্বরে ঘোরাফেরা করবেন না।
