
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে বন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। বেকবাগানে বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। পুলিশের তরফে মিছিল আটকাতে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কিও হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের সামনের রাস্তাতেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আন্দোলনকারীরা। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের সদস্যরাও। এনসিপিআইয়ের ব্যানার নিয়েই বিক্ষোভ মিছিল এগোয়। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বন্দি রয়েছেন চিন্ময় প্রভু। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে কার্যত বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। অবিলম্বে চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতেই এ দিন বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে জেলবন্দি ‘বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ’র মুখপাত্র তথা হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা রয়েছে। দিনের পর দিন তাঁর জামিন খারিজ করে দেয় বাংলাদেশের আদালত। মহম্মদ ইউনুসের আমলে বিচারের নামে প্রহসনের অভিযোগ উঠেছিল। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এখন সে দেশে সরকার বদলে গণতান্ত্রিক তারেক রহমানের সরকার এসেছে। কিন্তু চিন্ময় প্রভুর বিচারে একবিন্দুও গতি আসেনি। সম্প্রতি হিন্দু সন্ন্যাসীর মায়ের অসুস্থতার জন্য প্যারোলের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত তাঁর মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার এমন ঔদাসীন্য নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়।
