
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘বিস্তীর্ণ দুপারের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও, নিঃশব্দে নীরবে ও গঙ্গা তুমি বইছ কেন?’ কবিতার এই পংক্তিই যেন এবার মণ্ডপসজ্জার মূল ভাবনা। গঙ্গার বহমানতা, দূষণ এবং নদীভাঙনের নানা দিক শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চলেছে নলিন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। গঙ্গার উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর দীর্ঘ যাত্রাপথকে মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরা হবে। সেই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি, কঞ্চি-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান। নদীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার উপর নেমে আসা দূষণ ও ভাঙনের সংকটও মণ্ডপের শিল্পভাবনায় তুলে ধরা হবে। শিল্পী সনাতন দিন্দার পরিকল্পনা ও উদ্যোগে এবার নলিন সরকার স্ট্রিটের পুজোমণ্ডপে গঙ্গার সেই বহমান জীবনকথাই হয়ে উঠতে চলেছে মূল আকর্ষণ।
এখানে কোনও কৃত্রিম আলোর খেলা ছাড়াই সম্পূর্ণ শৈল্পিক উপায়ে জলের দৃশ্য উপস্থাপন করছেন শিল্পী সনাতন দিন্দা। পাথর খোদাই করে যেভাবে মূর্তি তৈরি করা হয়, সেই আদলে মাটির তৈরি দেবী প্রতিমাটিকে পাথরের রূপ দেওয়া হচ্ছে। ক্লাব সেক্রেটারি সিদ্ধার্থ সান্যাল জানালেন, ভূপেন হাজারিকার ‘বিস্তীর্ণ দুপারে’ গানের সুরের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপের থিম মিউজিক। অন্যদিকে, ভারতের বিভিন্ন শিল্পশৈলী যে কলকাতার পুজো মণ্ডপে ঠাঁই পাবেই, তা বলা বাহুল্য। মাটি, মানুষ আর প্রকৃতি— এই তিনের সহজ সহাবস্থানে ওরলি শিল্পের জন্ম। প্রাচীন অথচ চিরন্তন জীবনভাষ্যকেই রং, রেখা ও ছন্দে এবার উদযাপন করছে কাশীবোস লেন দুর্গাপূজা। শিল্পী অনির্বাণ। সমিতির সদস্য ঐন্দ্রিলী শেঠ জানালেন, শিকড়ের কাছে ফিরে গিয়ে জীবনের সহজ সৌন্দর্যকে খুঁজে নেওয়ার এই যাত্রার নাম ‘আদিম’।
শতাব্দীপ্রাচীন বাড়ির পাশেই আধুনিক বহুতল— উত্তর কলকাতার পাড়াগুলোর ‘ছন্দ ছাড়া ছন্নছাড়া’ এই ভিনমুখী বৈশিষ্ট্যই এবার হাতিবাগান সর্বজনীন-এর পুজো ভাবনা। হাতিবাগান চত্বরে একাধিক বড় পুজো কমিটির সঙ্গে পুরস্কার জেতার রেষারেষি প্রসঙ্গে মুখ্য উদ্যোক্তা শাশ্বত বসুর বক্তব্য, “হেলদি লড়াই নিশ্চয়ই থাকে। তবে কাউকে টেক্কা দেওয়ার মনোভাব নেই। এককভাবে কোনও একটি পুজো বড় হলে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে না। পাশাপাশি একাধিক বড় পুজো থাকলে একটি সম্পূর্ণ দর্শনীয় জোন তৈরি হয়। তাই এবারও উত্তর কলকাতার মণ্ডপগুলোয় ভিড় উপচে পড়বে।”
