
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে ঘিরে আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়। এই মামলায় মহম্মদবাজারের আরও এক প্রাক্তন সরকারি আধিকারিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সব্যসাচী মণ্ডল। তিনি মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রাক্তন আধিকারিক বা বিএলআরও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সব্যসাচীকে সিউড়িতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে পুলিশের দাবি। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার ধৃতকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে ৬ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। তবে আদালত ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট তিন জন সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব্যসাচীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সরকারি আইনজীবী বিভাষ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এর আগেও বিএলআরও কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। ডিসিআর নিয়ে বিএলআরও-র যে কাজ ছিল, সেই কাজটা পুরোটাই দেওয়া হয়েছিল টুলু মণ্ডলের সংস্থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে জাল ডিসিআর ছাপিয়ে চক্র চালাতেন টুলু। আর এই চক্রে মদচ জুগিয়েছেন অভিযুক্ত সব্যসাচী-সহ বেশ কিছু কর্মী। বর্তমানে ঝাড়গ্রামে কালেক্টরেট অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত সব্যসাচী। তদন্তকারী সূত্রের খবর, টুলুর সঙ্গে এই আধিকারিকের বিশেষ যোগাযোগ ছিল। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব তছরুপ এবং ভুয়ো রসিদ বা ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট (ডিসিআর) চক্রে মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই অভিযোগেই গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদবাজারের প্রাক্তন বিএলআরও-কে। ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মহম্মদবাজারের বিএলআরও ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত মাসে একই মামলায় বিএলআরও দফতরের কোষাধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ সাহা-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তকারী সূত্রের খবর, টুলু মণ্ডলের মামলায় গত কয়েক দিন ধরেই বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। বিশ্বজিৎ সাহাকে এর আগে পাঁচবার থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে, টুলুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কর্মচারী কৌসর আলিকেও বেশ কয়েক বার জেরার পর গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, টুলুর বেহিসাবি আয়ের পাশাপাশি তাঁর বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কৌসর। তাঁর কাছ থেকে একাধিক ব্যাঙ্কের চেক বইও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
বীরভূমের মহম্মদবাজার, নলহাটি-সহ একাধিক এলাকায় টুলুর পাথর ও বালির একচেটিয়া কারবার ছিল। অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের মদতে এই নকল ডিসিআর ছাপিয়ে সরকারের শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন। টুলুর শ্যালক মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২৮ কোটি নগদ টাকা ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর থেকেই বেপাত্তা এই পাথর-মাফিয়া। তদন্তকারীদের অনুমান, ইতিমধ্যেই দুবাই বা তুরস্কে পালিয়ে গিয়েছেন টুলু। সম্প্রতি সিউড়ি জেলা আদালতে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ তকমা দিয়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী।
