
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে হাসিরানি রথের হাত ধরে জয়ের ধারা বজায় রাখল বিজেপি। বিরোধীদের পিছনে ফেলে ফের গেরুয়া শিবিরের দাপট দেখা গেল এই হেভিওয়েট কেন্দ্রে। তবে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াইয়ের আবহে নজর কেড়েছে কংগ্রেসের উত্থানও। উপনির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে হাতশিবির। ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারি কি দলের পক্ষে বাড়তি সুবিধা এনে দিল? এই প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের সামনে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্তব্য, “কংগ্রেস মরা দল। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও ওদের কিছু হবে না।”
শুক্রবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে বিপুল ব্যবধানে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই সাফল্যের পর সাংবাদিক বৈঠকে বসে মুখ্যমন্ত্রী বারবার করে ধন্যবাদ জানালেন সংখ্যালঘুদের। তাঁর বক্তব্য, এমন সাফল্যের নেপথ্যে ৭০-৩০ শতাংশের ভেদাভেদ কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে শাসকদলকেই সমর্থন করলেন। এপ্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের আঙুল উঠল বাম, তৃণমূলের দিকে। এতদিন ধরে বিজেপিকে নিয়ে সংখ্যালঘু মহলে যে অপপ্রচার চলেছে, তা গত ৫ মাসে মিথ্যা বলে বুঝতে পেরেছেন জনতা। আর তাই নির্দ্বিধায় বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন বলে মত শুভেন্দু অধিকারীর। নন্দীগ্রামের ফলাফল প্রত্যাশিতই ছিল। টার্গেটমতো এক লাখের বেশি ভোটে জিতেছেন বিজেপির হাসিরানি রথ। কিন্তু শুক্রবার উপনির্বাচনে ভোটগণনা যত এগোতে থাকে, ততই চমক দেয় বিজেপির ফলাফল। ১৫ রাউন্ড গণনা শেষে দেখা যায়, ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। এটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শাসক শিবিরের কাছে। এতদিন রেজিনগর হাতে আসেনি বিজেপির। এমনকী ছাব্বিশের ভোটেও এখানে জিতেছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে এই কেন্দ্রের প্রার্থী হলেও তাঁকে ভোটের সময় কার্যত দেখা যায়নি। তার চেয়েও বড় কথা, ভোটের ফলাফল বলে দিচ্ছে, হুমায়ুন বা তাঁর ছেলের সংখ্যালঘু ‘তাস’ কাজে আসেনি রেজিনগরে। বরং শুভেন্দু অধিকারীর বন্ধুত্বের আহ্বান ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতেই তাঁরা ভরসা রেখেছেন।
উপনির্বাচনের ফলাফল হাতে পেয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘‘সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে। রেজিনগরে ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের দিদি-বোনরা ভোট দিয়েছেন। বেশি ভোট পেয়েছি সংখ্যালঘুদেরই। ৭০ শতাংশের মধ্যে ৬০শতাংশ ভোটই দিয়েছেন সংখ্যলঘু ভাইবোনরা। ভেদাভেদের রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের এতদিন বোঝানো হয়েছিল, বিজেপি এলে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। গত ৫ মাসে তাঁরা বুঝেছিলেন যে এসব কথা মিথ্যে। তা প্রমাণিত হওয়ায় আমরা তাঁদের ভোট পেয়েছি। আমি গত ৬ তারিখ ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’র কথা বলেছিলাম। তাঁরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আমি খুশি।” এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছেন হুমায়ুন কবীরকেও। তাঁর দাবি, ‘‘হুমায়ুন সাহেব সোশাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে যা বলেছেন, তাতে বেশি মুসলিমরাই বিরোধিতা করেছেন। সংখ্যালঘুরা ভোট দিয়েছেন। কারণ, তাঁরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চান।” প্রতিশ্রুতিমতো রেজিনগর কলেজ, নারকেলবাড়ি ব্রিজ, হাসপাতালকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা, শিল্প – সমস্ত কাজই ধীরে ধীরে হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, দুগ্ধশিল্পে উন্নতির জন্য ওখানে আমুল কারখানাও হবে।
