
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভয়া কাণ্ডের পর আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হলের পাশের ঘর ভাঙাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনায় এবার স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের ভূমিকা নিয়েও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার আর জি করে এবিভিপির চিকিৎসক সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি জানান, ওই ঘর ভাঙার নির্দেশ যদি স্বাস্থ্যসচিব দিয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে যেখানে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেই ঘর এবং সংলগ্ন শৌচালয়টি ঘটনার পর রাতারাতি কার নির্দেশে ভেঙে দিয়ে সংস্কার করা হল? যে স্বাস্থ্যসচিব এই নির্দেশের নেপথ্যে ছিলেন, তিনি এখনও কীভাবে বহাল তবিয়তে নিজের পদে বসে রয়েছে। এরাই যদি চেয়ারে বসে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাবে? আমার মেয়ে সঠিক বিচার পেলে তবেই স্বাস্থ্যদপ্তর দুর্নীতির হাত থেকে মুক্ত হবে।” সন্তানহারা বিধায়কের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনার সময় যদি তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব ওই স্থান ভাঙার বা প্রমাণ নষ্টের কোনও নির্দেশ দিয়ে থাকেন, এবং তিনি যদি এখনও স্বাস্থ্যসচিব পদে বহাল থাকেন, তবে বিষয়টির সত্যাসত্য আমি নিজে খতিয়ে দেখছি। আমি কথা দিচ্ছি, অভিযোগের সত্যতা মিললেই নারায়ণস্বরূপ নিগমকে অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।”তবে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আর জি করে সংস্কারের দায়িত্ব পূর্তদপ্তরের। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে পূর্তদপ্তরকে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানান তিনি। যদিও কোনও ব্যক্তি অভিযুক্ত হন, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেবেন বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, “অভয়া কাণ্ডে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। অভয়াকে সুবিচার দেবই। তিলোত্তমা বিচার পাবেই।”
প্রধানমন্ত্রীর পর এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় ‘দিমাগি নকশাল’রা। দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কমিউনিস্ট লোক, দিমাগি নকশাল, দেশবিরোধী শক্তিদের চিনে চিনে ধ্বংস করতে হবে। এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, রাস্তায় নেমে চিনে চিনে শিকড় উপড়ে ফেলুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যে কাশ্মীরের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছিল, সেই কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। পাশাপাশি যাদবপুরকে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে সরব হন তিনি। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! কী আজাদি? আজাদি মিছিল চলবে না। সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরমের আওয়াজ উঠবে।”
গত আগস্টে জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বাম ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপির মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল ক্যাম্পাস। জ্বলেছিল আগুন। ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিল বাম ও এবিভিপি উভয়ই। তা নিয়েও তুমুল অশান্তি হয়। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিজেপির তরফে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য রেখেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। এরপরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কান ঘেঁসে গেরুয়া সম্মান যাত্রার আয়োজন করেছিল বিজেপি। গোলপার্ক থেকে এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকে মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালে এবিভির সম্মেলনে দাঁড়িয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই প্রসঙ্গ তুলে কমিউনিস্টদের বিঁধেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরমের আওয়াজ উঠবে। সেন্টার অফ এক্সিলেন্স যাদবপুর মিছিল করে আজাদি আজাদি। কী আজাদি? কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! কমিউনিস্ট লোক, দিমাগি নকশাল, দেশ বিরোধী শক্তিদের চুন চুন কে…। ঘরে বসে থাকার সময় নয়, রাস্তায় নেমে চিনে চিনে শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। আজ রেজিনগর, নন্দীগ্রাম যা করে দেখাল-সেটাই দেশের আওয়াজ। এবিভিপির সঙ্গে থেকে ন্যাশনাল এডুকেশন সিস্টেম বাস্তবায়ন করবে সরকার। অভয়ার পরিবারকে বিচার দিতে সরকার ছিল-আছে-থাকবে।”
পাশাপাশি এদিন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলায় তদন্তের আগেই সোশাল মিডিয়ায় হিন্দুত্ববাদীদের দোষারোপ কেন? এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ সোশাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে গোটা সনাতনী হিন্দু সমাজকে তিনি অপমান করেছেন বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিকাশের এই দাবিতেই আপত্তি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর কথায়, “হামলার ঘটনার তদন্ত অবশ্যই হবে। আমার নির্দেশে পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তারও করেছে। তবে উনি কীভাবে সোশাল মিডিয়ায় লিখলেন হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করেছে? গোটা হিন্দু সমাজের অপমান করেছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা হবে। আমি ছাড়ার পাত্র নই। গেরুয়া, সনাতন, হিন্দুত্ব, রাষ্ট্রবাদীর বিরুদ্ধে আঙুল তুললে তাদের সবক শেখাতেই হবে।” এদিকে, এই মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই আইনজীবীর বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের হয়েছে। হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
