
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের আন্দোলনের আঁচ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। SIR নিয়ে আপত্তি এবং ‘ভোট কারচুপি’র অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব INDIA জোট। সেই প্রতিবাদে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজধানীর পথে পা বাড়ানোর আগে বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর নিশানায় উঠে এল SIR প্রক্রিয়া, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।
মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা করেছিলেন মমতা। লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। ভোটে পালাবদল হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের 'মিলিত চক্রান্ত' দাবি করে বারবার মুখ খুলেছেন তিনি। এদিনও সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, 'নির্বাচন কমিশন ছাপ্পা ভোট করিয়েছে। ধাপ্পা ভোট হয়েছে। ভোটের আগেই বিজেপির নেতারা বলে দিচ্ছেন কত ভোটে জিতবে? এরম কখনও শুনেছেন?' তাঁর অভিযোগ, 'বিজেপি আসলে ক্যালকুলেটিং ভোট করিয়েছে।'একইসঙ্গে কালীঘাট-তৃণমূলের নেত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'লুট করে লুটেরারা বেশিদিন বাজি জিততে পারবে না।'
এসআইআরে কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে ইন্ডি জোটের শরিকরা। গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। বিরোধীদের এই কর্মসূচিতে মঙ্গলবার সামিল ছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjeer)।
বুধবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে দিল্লির ৯ জনপথে এক হাইপ্রোফাইল মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, বাম সাংসদ জন ব্রিটাস সহ জোটের শীর্ষ নেতারা। এই লাঞ্চের আড়ালেই মূলত পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে যায়। বৈঠক শেষে বিরোধীরা বাসভর্তি হয়ে যন্তর মন্তরের দিকে প্রতিবাদ মিছিলে এগোতে চাইলে দিল্লি পুলিশ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে রাস্তা আটকে দেয়।
বাস থেকে নেমে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোজাসুজি প্রতিবাদী জনতার ভিড়ে মিশে যান এবং ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের ঘিরে রাখে এবং তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন সহ একাধিক নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তোলে। দিনভর চলা এই পুলিশি দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন বিরোধী নেতারা।
অন্যদিকে, শুধু রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, এ দিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)। আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশাল প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়ে সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন।
