
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান যেন বারবারই কোনও না কোনও কারণে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। সম্প্রতি নতুন ছবির প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই মুম্বইয়ের একটি মন্দিরে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তবে এবার তাঁর অভিনয় বা সিনেমা নয়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে পোশাক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সকালে মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছেন বরুণ ধাওয়ান। তাঁর পরনে ছিল একটি স্যান্ডো গেঞ্জি এবং ঢিলেঢালা হাফ প্যান্ট। কপালে তিলক কেটে মন্দির থেকে মিষ্টির বাক্স হাতে বেরিয়ে আসতেও দেখা যায় অভিনেতাকে। বাইরে অপেক্ষারত পাপারাজ্জিদের দিকে হাসিমুখে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি। এমনকি এক অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তোলেন। বরুণের এই সহজ-সরল উপস্থিতি অনেকেরই মন জিতেছে। অনুরাগীদের একাংশের মতে, একজন তারকা হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং লোকদেখানো আড়ম্বরের পথে হাঁটেন না। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগতভাবে মন্দিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে পোশাকের চেয়ে ভক্তিভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অন্যদিকে, নেটিজেনদের একাংশ অভিনেতার পোশাক নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মন্দিরের মতো ধর্মীয় স্থানে আরও শালীন পোশাক পরা উচিত ছিল কি না। কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘আপনার বাড়িতে জামা নেই?’ কেউ বা প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘আপনাকে কি দেশের দারিদ্র্যের প্রচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?’ কেউ বা আবার মনে করিয়ে দিলেন, ‘দাদা, বাড়ি থেকে বেরনোর আগে শার্টটা অন্তত গায়ে চড়িয়ে নিতে পারতেন!’ কারও বা কটাক্ষ, ‘কিছু একটা ভদ্রস্থ পোশাক পরতেন! আপনি মন্দিরে এসেছেন। শালীনতা শেখেননি?’ এহেন নানা কটাক্ষবাণে ছেয়ে গিয়েছে ওই ভিডিওর মন্তব্যবাক্স।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার পোশাক ও জনসমক্ষে আচরণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন বরুণ ধাওয়ান। কয়েক মাস আগে মুম্বইয়ের রাস্তায় এবং মেট্রো সংক্রান্ত একটি প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাতেও অভিনেতার আচরণে কোনও অস্বস্তি বা বিরক্তির ছাপ দেখা যায়নি। বরং স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ভাবেই তিনি অনুরাগীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ফলে, বরুণ ধাওয়ানের এই মন্দির সফরকে ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই মেরুর প্রতিক্রিয়া। কেউ তাঁর সরলতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার কেউ পোশাক নির্বাচনের জন্য সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও বরুণ যে নিজের মতো করেই চলতে পছন্দ করেন, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
