Entertainment

18 hours ago

Iman's Singing Secrets: যোগাসনেই লুকিয়ে গানের শক্তি! কণ্ঠসাধনায় নতুন পথ দেখাচ্ছেন ইমন চক্রবর্তী

Iman Chakraborty
Iman Chakraborty

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সঙ্গীতচর্চা মানেই শুধু তানপুরা হাতে রেওয়াজ নয়, তার সঙ্গে প্রয়োজন শারীরিক সক্ষমতাও। সেই বার্তাই যেন নতুন করে তুলে ধরছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। যোগাভ্যাস ও সঙ্গীতকে একসূত্রে বেঁধে তিনি এখন ছাত্রছাত্রীদের শেখাচ্ছেন কণ্ঠসাধনার এক অভিনব পদ্ধতি। ইমনের মতে, ভালো গান গাওয়ার জন্য শুধু সুর ও তাল জানলেই হয় না, প্রয়োজন শরীরের কেন্দ্রস্থলের পেশি বা ‘কোর মাসল’-কে শক্তিশালী করে তোলা। যোগাসনের সময়ে গান গাওয়া নিয়ে ইমন বলেন, “শরীরে ‘কোর মাসল’ অর্থাৎ দেহের কেন্দ্রস্থলের পেশি যদি দুর্বল হয়, তা হলে তার প্রভাব গানের উপর পড়ে। পণ্ডিতেরা বলেন, নাভি থেকে শব্দের উৎপত্তি হয়। আমি এটা শুনে অবাক হতাম। এখন বুঝতে পারি, শরীরের কেন্দ্রের পেশি যত শক্তিশালী হবে, গান গাওয়া তত ভাল হবে।”

‘প্ল্যাংক’ অবস্থায় থেকে একটি স্বর কতক্ষণ ধরে রাখতে পারবে সঙ্গীতশিল্পী, তার উপর গান গাওয়া অনেকটাই নির্ভর করে। জানান ইমন। তাঁর কথায়, “গান গাওয়ার ক্ষেত্রে দম রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এখন কেউ বসে গান গাই না। মঞ্চে লাফালাফি করেই গাইতে হয়। ফুসফুসের সঙ্গে ‘কোর মাসল’-এর সহযোগিতাও সেখানেও প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাস আমার জীবনে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ।”  শৈশব থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন ইমন। বর্তমানে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন তিনি। সেখান থেকেই কণ্ঠসাধনার নতুন নতুন কৌশল সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তাঁর মতে, “আসলে এই রেওয়াজে সুর কতটা সঠিক ভাবে লাগছে, সেইটা পোক্ত হয়। কিন্তু দম রাখতে পারার জন্য কী প্রয়োজন, সেটা আমি পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে আরও ভাল করে শিখেছি। গান গাওয়ার সময়ে মসৃণ শ্বাসপ্রশ্বাস রাখার জন্য যোগাভ্যাস, শরীরচর্চা, প্রাণায়াম করতেই হবে।”


শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেও যোগাভ্যাসের ইতিবাচক প্রভাবের কথা জানিয়েছেন শিল্পী। ইমন জানান, “আমার পিসিওডি (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজ়ি়জ়) রয়েছে। বিয়ের সময়ে আইবুড়ো ভাত খাওয়া ইত্যাদির জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন এক বন্ধু যোগাসনের পরামর্শ দেন। আমার উদ্বেগের সমস্যাও ছিল। খুব চিন্তা করতাম। দ্রুত রেগে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। যোগাসন শুরুর পরে সেটা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।” কণ্ঠকে সুস্থ রাখতে কঠোর নিয়মও মেনে চলেন ইমন। অপ্রয়োজনীয় ফোনালাপ এড়িয়ে চলা, উচ্চস্বরে কথা না বলা, রাগের মাথায় চিৎকার না করা— এসব বিষয়ে তিনি বিশেষ সতর্ক। পাশাপাশি দূষণের হাত থেকে গলা বাঁচাতে বাইরে বেরোলেই মাস্ক ব্যবহার করেন। খাদ্যাভ্যাসেও এনেছেন বড় পরিবর্তন। আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়, টক জল বা টক দইয়ের মতো প্রিয় খাবারও বাদ দিয়েছেন কণ্ঠস্বরের স্বার্থে। তাঁর বিশ্বাস, একজন সঙ্গীতশিল্পীর জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই দীর্ঘদিন কণ্ঠকে সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। সঙ্গীত ও সুস্থ জীবনযাত্রার এই মেলবন্ধনই আজকের প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য নতুন দিশা দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 


You might also like!