
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা আমির খানের তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে এবং শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাত অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ‘লাভ জেহাদ’-এর সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁদের বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সমাজমাধ্যমে। সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নীতেশ রানে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমির লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর?’ তাঁর এই মন্তব্যের পর শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাতও একই সুরে বলেন, একজন তারকা হিসেবে আমিরকে বহু মানুষ অনুসরণ করেন। তাই একাধিক বিয়ের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কাছে কী ধরনের সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ‘আমির লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠতেই পারেন। কিন্তু, ভক্তের হৃদয়ে বাস করতে পারবেন না।’ সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে নীতেশের মতকে সমর্থন করে সঞ্জয়ের সংযোজন, “নীতেশ রানে ঠিকই বলেছেন। মানুষ একজন অভিনেতাকে অনুসরণ করে কারণ তাঁকে বড় তারকা বলে মনে করে।”
আমিরের তিনটি বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “একবার নয়, দু’বার নয়, তিনবার বিয়ে! মানুষ তাঁর থেকে কী শিক্ষা পাচ্ছেন? তিনি লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হতে পারেন কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবেন না।”নীতেশ রানে বা সঞ্জয় শিরসাতের এহেন মন্তব্যে আমির খানের ব্যক্তিগতজীবন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না। এদিকে, অভিনেতাকে ঘিরে বিতর্ক শুধু রাজনৈতিক মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সম্প্রতি বিহারের ফোরবেসগঞ্জে বজরং দলের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে আমির খানের কুশপুতুল দাহ করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনেতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হলেও, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমির খানের কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন আমির খান। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হলে তিনি কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই সম্পর্কেরও ইতি টানার পর সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিশেষ বিবাহ আইনের আওতায় (Special Marriage Act) ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তৃতীয়বার বিয়ে করেছেন অভিনেতা। সেই বিয়েকেই কেন্দ্র করে এবার নতুন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক দানা বাঁধছে।
