
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার প্রায় দু’বছর পর ফের কংগ্রেসের আলোচনায় উঠে এল জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের প্রসঙ্গ। মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় নীতীশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা ওঠে। সূত্রের খবর, বৈঠকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং মন্তব্য করেন, নীতীশ কুমারকে জোটে ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত ছিল। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেননি সোনিয়া গান্ধী। ফলে বৈঠকের মধ্যেই নীতীশকে ঘিরে দু’জনের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে বলে জানা গিয়েছে।
কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিছুটা আত্মসমালোচনার সুরে নীতীশের প্রসঙ্গ টেনে আনেন দিগ্বিজয় সিং। তিনি বলেন, “২০২৩ সালে নীতীশকে যদি সন্তুষ্ট করা যেত তাহলে হয়ত উনি জোট ছেড়ে যেতেন না। ওনাকে ইন্ডিয়া জোট ছাড়তে দেওয়া উচিত হয়নি আমাদের। ওঁকে ধরে রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা উচিত ছিল আমাদের। উনি থেকে গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যরকম হত। এই সময়কালে যে নির্বাচনগুলি হয়েছে তার ফলও ভিন্ন হতে পারত।” তবে দিগ্বিজয়ের এই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দেন সোনিয়া। নীতীশ সম্পর্কে কঠোর মনোভাব নেন তিনি।
বৈঠকে দিগ্বিজয়ের মন্তব্যের পালটা সোনিয়া বলেন, নীতীশ কুমার জোট ছেড়ে চলে যাওয়ায় ইন্ডিয়া জোটের উপকারই হয়েছে। তাঁর কথায়, “ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ যে নীতীশ কুমার সময়মতো চলে গিয়েছেন। ওনাকে আটকে রাখা যেত না। উনি ওখানেই যেতেন। উনি বিরোধী জোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এবং শেষ পর্যন্ত যেখানে যাওয়ার সেখানেই পৌঁছে গিয়েছেন।” সোনিয়া আরও বলেন, নীতীশ কুমার অনেক আগে থেকেই মনস্থির করে নিয়েছিলেন জোট ছাড়বেন। এরপর থেকে তিনি জোট ছেড়ে বের হওয়ার বাহানা খুঁজছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে ২০২৩ সালে গঠিত হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। এই জোটের অন্যতম প্রধান ছিলেন খোদ নীতীশ কুমার। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে হঠাৎই উলটে পালটে যায় সব হিসেব নিকেশ। লোকসভা ভোটের আগে তিনি যোগ দেন এনডিএ শিবিরে। তার আগে অবশ্য বিহারে আজেডির সঙ্গে জোট ভেঙে বিজেপির হাত ধরে ফের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। বলেন, ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল না। বিরোধী ঐক্য গড়ার চেষ্টা করে কাঙ্খিত ফল তিনি পাচ্ছিলেন না। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় এনডিএ-র সরকারের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে নীতীশের জেডিইউ ও চন্দ্রবাবুর দল টিডিপি।
