Country

1 hour ago

INDIA Bloc Meeting : ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে মমতা-অভিষেক, ভোটের ফলের পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?

Mamata Banerjee & Abhishek Banerjee
Mamata Banerjee & Abhishek Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং প্রতীক ও নাম সংক্রান্ত জটিলতাও রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং গ্রহণযোগ্যতা কতটা বজায় থাকে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে হাজির মমতা ও অভিষেক। 

এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপসারণ চাইছেন বিরোধীরা। সেই আবহে দিল্লিতে বিরোধীদের বৈঠকও শুরু হয়েছে। বৈঠকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ইন্ডি’ জোটের ফাটল কি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে? বৈঠকের মধ্যেই সেই প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে অনুপস্থিত আম আদমি পার্টি, ডিএমকে। উপস্থিত নেই সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের মতো কিছু শরিক দলের প্রধান।  ডিএমকে ও আপ আগেই জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছে। বুধবারের বৈঠকে নেই সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। সেই কথাও জানা গিয়েছে। জোটের মধ্যেই ছন্নছাড়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। সেই আবহে গতকাল, মঙ্গলবার দিল্লি গিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বেলায় কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক শুরু হয়েছে। মমতা-অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকে রয়েছেন সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জোটের মধ্যে যখন এত ডামাডোল চলছে, তখন কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে এই বৈঠক? সেই প্রশ্ন উঠেছে। 

রাজ্যে ভোটে হারার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা মমতা-তৃণমূল। কার্যত নিজেকে ‘ঘরবন্দি’ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক মাস আগেও যারা বিশ্বস্ত ছিলেন, সেসব নেতারা শিবির বদল করে মমতাকেই তীব্র আক্রমণ করছেন। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়ছে না মমতার দল। কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থন করছে কালীঘাট তৃণমূল। প্রসঙ্গত, মমতার প্রার্থী নিজেই নির্বাচন থেকে সরে এসেছে। রেজিনগরের মমতার প্রার্থীও একইভাবে লড়াই থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও পরে মমতার সঙ্গে কথা বলে তিনি ভোটে লড়ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, মমতার গ্রহণযোগ্যতা কি ক্রমেই আসছে? কোণঠাসা হয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেজন্যই দিল্লিতে ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে ছুটেছেন মমতা-অভিষেক? ভোট বিপর্যয়ে দিল্লিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

সূত্রের খবর, এদিন ইন্ডি জোটের বৈঠকের শুরুতেই মমতা কাতর স্বরে বলেন, “ভোটে হারের পর আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। দয়া করে কিছু করুন।” বিজেপিকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে মমতা অন্য জোট শরিকদের পথে নেমে আন্দোলনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁর নিশানায় ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এতদিন জ্ঞানেশকে তিনি সম্বোধন করতেন ভ্যানিশ কুমার বলে। এবার তিনি ইন্ডি জোটের মঞ্চে জ্ঞানেশকে বিনাশ কুমার বলে তোপ দাগেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য বুধবার দিল্লিতে ইন্ডি জোটের শরিকরা বৈঠকে বসলেও মমতার উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা নয়। তিনি অন্য বিরোধীদের সাহায্য নিয়ে জ্ঞানেশ ইস্যুকে আঁকড়ে ধরে নতুন করে রাজ্যে রাজনৈতিক জমি তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্য শরিকদের মধ্যে তৃণমূল নেত্রীর মূল ভরসা সেই কংগ্রেস। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মমতা আজ যে ভোটচুরি ইস্যু নিয়ে এত হইচই করছেন, একসময় কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধীও একইভাবে এই ইস্যু পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। সেসময় তৃণমূল নেত্রী উদাসীন ছিলেন। বরং কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। যদিও এতকিছুর পরও সোনিয়া গান্ধী মমতাকে অচ্যুত করে রাখেননি। জোটের বৈঠকে তাঁকে পাশেই বসিয়েছেন সোনিয়া।  

You might also like!