
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আগের সরকারের আমলে রাজ্যের স্কুল লাইব্রেরিগুলিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই রাখার নিয়ম ছিল বলে উল্লেখ করে বুধবার নতুন নির্দেশের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা বই ও তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বই রাখার নির্দেশ দেন। বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিতে তাঁর সাহিত্য ও সমাজসংস্কারমূলক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বইয়ের সংগ্রহ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন বীরসিংহ গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। ওই গ্রামকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এখানে কিছুই হয়নি। শুধু ভাষণ আর ভাষণ।” বীরসিংহ গ্রামকে নতুন করে সাজাতে ৩০ লক্ষ বরাদ্দ ব্যয়ে বড় পুষ্করিণী পাড়, ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হেলথ সেন্টারের উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া গ্রামে সোলার লাইট-সহ একাধিক ব্যবস্থাপনা করা হবে। পর্যটনের কথা মাথায় রেখে এই গ্রামকে ঢেলে সাজানোর ভাবনাচিন্তা রয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানান, লাইব্রেরি থেকে মিউজিয়াম তৈরি হবে। বিদ্যাসাগরের জন্মস্থলকে দেশে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। যাঁরা বিদ্যাসাগরের উপর গবেষণা করবেন তাঁদের থাকার জন্য কটেজ তৈরি করা হবে। যেখানে গিয়ে রাত্রিবাস করতে পারবেন পর্যটকরা। বিদ্যাসাগরের গ্রামে দাঁড়িয়ে বাল্যবিবাহ রোধে রাজ্যের চিন্তাভাবনা নিয়েও বলেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “বিগত সরকারের ভুল নীতির জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্যে আমরা পিছিয়ে। বাল্য বিবাহে দেশে ১ নম্বরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি আমরা। কিন্তু এই সরকারের আমলে সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে।” নেশামুক্ত বাংলা গড়তেও রাজ্য সরকার যথেষ্ট তৎপর বলেও জানান তিনি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রতি বছর বর্ষায় আর সইতে হবে না জলযন্ত্রণা। আগামী বছরের জুনের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হয়ে যাবে বেশিরভাগ। বুধবার বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এই সভায় যোগ দেওয়ার আগে কপ্টার থেকে প্লাবিত ঘাটাল পরিদর্শনও করেন তিনি। এদিন শুভেন্দু বলেন, “এবারের বর্ষাতেও ঘাটালের বানভাসি দশা। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান যা বিগত দিনে ভাষণে ছিল। এবার কেন্দ্র ও রাজ্য ৫০ শতাংশ করে টাকা দেবে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও কিছু টাকা দেবে। রাজ্যের তরফে মোট ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করলাম। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। দাসপুর ও ঘাটালের বিধায়করা কাজের দিকে নজর দিন। যাতে ফি বছর জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পান গ্রামবাসী। পুজোর পর কাজ শুরু হবে পুরোদমে। জুনের মধ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার।” এছাড়া এদিন গঙ্গাপাড়ের কাছে কাঁচা বাড়ির তালিকা তৈরি করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি কাঁচা বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। দ্রুত এই টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
