
দেরাদুন, ১৪ আগস্ট : উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটি এলাকায় টিএইচডিসি-র নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জল জমে ও ধস নেমে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের খোঁজে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পিপলকোটিতে পৌঁছন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। খুব খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই শুক্রবার পিপলকোটিতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণ করানোও বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টিআরটি সুড়ঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধসের কারণে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ প্লাবিত হয়। সুড়ঙ্গটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। দুর্ঘটনার পর সুড়ঙ্গে ২২ জন আটকে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। জেলাশাসক গৌরব কুমার সারারাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। প্রশাসনের মতে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া বাকিদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সুড়ঙ্গের ভেতরে যাওয়া ৬ জন উদ্ধারকর্মী নিরাপদে রয়েছেন। জানা গেছে, গোপেশ্বর জেলা হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, আইটিবিপি, পুলিশ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে ধ্বংসস্তূপ ও জল থাকার কারণে উদ্ধারকারী দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, প্রদীপ সিং পাওয়ার, মুকেশ, দুর্লভ শর্মা, বিজয়, জিতেন্দ্র কুমার, লোকেশ্বর এবং ভুবনেশ্বর। প্রদীপ সিং পাওয়ার তেহরি জেলার চম্বা এলাকার গেনওয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মুকেশ চামোলি জেলার উরগামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দুর্লভ শর্মা বিহারের, বিজয় ও জিতেন্দ্র কুমার ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ছিলেন। লোকেশ্বর ও ভুবনেশ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তার জন্য রাজ্য দুর্যোগ অপারেশন সেন্টার একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে:
* ১০৭০
* ০১৩৫-২৭১০৩৩৪
* ৮২১৮৮ ৬৭০০৫
