
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আগে রাতারাতি কালো দাগছোপ দূর করা সহজ নয়। তবে লালচে ও জেদি ব্রণ নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভবও নয়। এর জন্য সবসময় ফেশিয়াল বা দামি ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন পড়ে না। বরং প্রতিদিন মুখ ধোয়ার সময় করা কিছু সাধারণ ভুলই ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পুজোয় ত্বককে আরও পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে আজ থেকেই বদলে ফেলুন মুখ ধোয়ার এই ৪টি অভ্যাস।
১. বারবার মুখ ধোয়ার প্রবণতা— তৈলাক্ত ত্বক ভেবে অনেকেই দিনে চার-পাঁচ বার ফেসওয়াশ মেখে মুখ ধুয়ে নেন। ভাবেন, মুখ যত পরিষ্কার থাকবে, ব্রণ তত কমবে। এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা। ঘন ঘন মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা আর প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায়। ফলে ত্বক নিজেকে রক্ষা করতে আরও বেশি তেল তৈরি করে। বাড়তে থাকে ব্রণের দাপট। তাই সারাদিনে দু’বারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। ধুলোবালি বা ঘাম হলে শুধু ঠান্ডা জলে মুখ ঝাপটে নিন।
২. স্ক্রাবের নামে ত্বকে অত্যাচার— মৃত কোষ আর জমে থাকা ময়লা দূর করতে অনেকেই দানাযুক্ত স্ক্রাব দিয়ে মুখ ঘষতে শুরু করেন। পুজোয় ঝকঝকে ত্বক পেতে গিয়ে এই ভুলটি করবেন না। ব্রণের ওপর শক্ত স্ক্রাব ঘষলে ভেতরের জীবাণু সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ে। ত্বক অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। এমনকী এই সময়ে কড়া কেমিকেলযুক্ত অ্যাক্টিভ উপাদান ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। জটিল উপাদানের পেছনে না ছুটে হালকা কোনও মাইল্ড ক্লিনজার বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. জল ব্যবহারের গড়মিল— মুখ ধোয়ার সময় জলের তাপমাত্রাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রচণ্ড গরম জল দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ব্যালেন্স পুরোপুরি নষ্ট হয়। এতে ত্বক রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। সবসময় স্বাভাবিক জল কিংবা হালকা ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধোবেন। আর মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে সজোরে ঘষাঘষি করবেন না। আলতো হাতে জল চেপে মুছে নিন।
৪. বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়বেন না— স্যালিসিলিক অ্যাসিড নাকি প্রাকৃতিক উপাদান? কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত, তা বিজ্ঞাপনের চটক দেখে ঠিক করবেন না। ইনফ্লুয়েন্সরদের পরামর্শ শুনে রাতারাতি নতুন কোনও প্রোডাক্ট ট্রাই করা বন্ধ করুন। সবার ত্বকের ধরন এক নয়। আপনার ত্বকে ঠিক কী প্রয়োজন, সেটা বুঝে প্রোডাক্ট বেছে নিন। সমস্যা না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
