
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আগে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন করে সাজিয়ে তোলেন প্রায় প্রত্যেক বাঙালিই। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও যদি ঘর গোছাতে গিয়ে হিমশিম খান, তাহলে কাজে লাগাতে পারেন জাপানি কিছু সহজ পদ্ধতি। জাপানের বাড়িঘর সাধারণত পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি এবং মিনিমাল সাজসজ্জার জন্য পরিচিত। তাই পুজোর আগে কম সময়ে ঘরকে সুন্দর ও গোছানো রাখতে চাইলে মেনে চলতে পারেন জাপানের এই সহজ নিয়মগুলি।
১. ‘5S’ পদ্ধতি: জাপানের ‘5S’ পদ্ধতিতে রয়েছে ‘সেইরি’ (অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাছাই), ‘সেইটন’ (জিনিস সঠিক জায়গায় রাখা), ‘সেইসো’ (পরিষ্কার করা), ‘সেইকেতসু’ (পরিচ্ছন্নতার নিয়ম তৈরি করা) এবং ‘সিতসুকে’ (সেই অভ্যাস বজায় রাখা)। অর্থাৎ প্রথমে প্রয়োজন নেই এমন জিনিস সরিয়ে ফেলুন, প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন, নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং সেই রুটিন বজায় রাখুন।
২. ‘কিরেই নি সাকাউ’—ব্যবহারের পরই পরিষ্কার: কোনও জিনিস ব্যবহার করার পর সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে রাখার অভ্যাস তৈরি করুন। যেমন, রান্না শেষ হওয়ার পর সিঙ্ক পরিষ্কার করে নেওয়া বা ব্যবহারের পর রান্নাঘরের কাউন্টার মুছে দেওয়া। প্রতিদিন অল্প অল্প করে পরিষ্কার করলে কাজ জমে বড় হয়ে যায় না।
৩. দরজার বাইরে জুতো খুলে রাখুন: জাপানের বাড়িতে প্রবেশপথে জুতো খুলে রাখার রীতি খুবই পরিচিত। বাইরে থেকে জুতোর সঙ্গে ধুলো-ময়লা ঘরের ভিতরে না ঢোকানোই এর মূল উদ্দেশ্য। বাড়ির দরজার কাছেই জুতো রাখার নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করলে মেঝে পরিষ্কার রাখা সহজ হয়।

৪. ‘মা’—খালি জায়গার গুরুত্ব: জাপানি ভাষায় ‘মা’ বলতে এমন এক ধারণাকে বোঝায়, যেখানে খালি জায়গাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রান্নাঘরের কাউন্টার, টেবিল বা অন্য কোথাও অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে যতটা সম্ভব ফাঁকা রাখুন। এতে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা সহজ হয় এবং ঘরও দেখতে পরিপাটি লাগে।
৫. ‘সউজি টাইম’— পরিচ্ছন্নতা হোক রোজের অভ্যাস: ‘সউজি’ বলতে পরিষ্কার করার কাজকে বোঝায়। জাপানিদের মতে, প্রত্যেকদিন যেন খাওয়া ঘুমানো বা অন্যান্য কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করা থাকে, তেমনই পরিষ্কার করার জন্যও নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা উচিত। বাড়ি সবসময় ঝকঝকে রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই হতে পারে সহজ উপায়।
বাড়ি পরিষ্কার থাকলে মন ভালো থাকে। রোগ-অসুখের সম্ভাবনাও কমে। পুজোর আগেই তাই ঝকঝকে তকতকে করে ফেলুন বাড়িঘর। আর তারপর থেকে এই নিয়মগুলিকে করে ফেলুন রোজের জীবনের অঙ্গ।
