kolkata

1 hour ago

CID team at the TMC central office in Kalighat :ঘণ্টাখানেক টানাপোড়েনের পর তৃণমূল পার্টি অফিসে সিআইডি প্রবেশ, মমতার বাড়ি ঘিরে উত্তেজনা

CID team at the TMC central office in Kalighat
CID team at the TMC central office in Kalighat

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছে গেল সিআইডি-র দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন এই কার্যালয়টি। সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলের ওই কার্যালয়ে যায় রাজ্যের গোয়েন্দা দফতর। সঙ্গে ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে প্রথমেই ভিতরে ঢুকতে পারেনি সিআইডি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ওই কার্যালয়ে থাকা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা।


মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে পৌঁছায় সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল। মহিলা অফিসারদের নেতৃত্বে গেট ঘিরে ফেলা হয় বলে জানা যায়। ঘটনাস্থলে কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। সিআইডির দাবি, সই জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে তল্লাশি চালাতে যাওয়া হয়েছিল।

এই সময় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকায় পার্টি অফিসের দায়িত্বে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ শুভাশিষ চক্রবর্তী। তিনি তল্লাশির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন বলে জানা যায়। একই সময়ে ক্যামাক স্ট্রিট অফিসেও সিআইডির আরেকটি দল পৌঁছয়।

শুভাশিষ চক্রবর্তী বলেন, “আমি আইনজীবী, আপনারা আমাকে জানিয়ে আসেননি। যাঁদের চিঠির ভিত্তিতে এসেছেন তাঁরা এই মুহূর্তে নেই। ওনারা ফিরুন। আপনি ২ দিন পর আসুন।” এরপরই সিআইডির তরফে বলা হয়, “আপনি কাজে বাধা দিচ্ছেন, এর পরিণতি আপনার জানার কথা।” এক পর্যায়ে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। শেষে শুভাশিষ বলেন, “আমার যা বলার বললাম। আপনারা কী করবেন, আপনাদের ব্যাপার।” এরপর নিরাপত্তারক্ষীরাও চেষ্টা করেন সিআইডি অফিসারদের আটকানোর। গোটা ঘটনার ভিডিওগ্রাফি হয়। পরবর্তীতে কার্যালয়ের বাইরে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন সিআইডি আধিকারিকরা। এরপরই কার্যালয় ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তৃণমূল কার্যালয়ে প্রবেশ করে সিআইডি টিম। সূত্রের খবর, কার্যালয়ের লগবুকের খোঁজেই তল্লাশি চালাতে চালাচ্ছে সিআইডি।

 সই কাণ্ডের সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় জালিয়াতি সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। এই ঘটনায় তিনবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে তলব করে সিআইডি। যদিও একাধিক অজুহাতে তা এড়িয়ে যান তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। বারবার চিঠি দিয়ে সময় চান। সিআইডির শেষ সমন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ডেডলাইন অভিষেকের। 

You might also like!