
শিলিগুড়ি, ১৯ জুন : বৃহস্পতিবার রাতের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে হড়পা বানের মুখে পড়েছে উত্তরবঙ্গের সমতল ও পাহাড়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর উপচে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বালাসনের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়েছে দুধিয়ার অস্থায়ী হিমপাইপ সেতু । এর ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিক হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার সরাসরি রুটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মিরিকের বাসিন্দাদের এখন দীর্ঘ ঘুরপথে ঘুম হয়ে শিলিগুড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত— মাত্র আড়াই ঘণ্টায় মিরিকে ৬৩ মিলিমিটার এবং কার্শিয়াঙে রেকর্ড ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাহাড়ের এই বিপুল জলরাশি বালাসনের দিকে নেমে আসাতেই দুধিয়ার ডাইভারশনটি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। সমতলের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক; সমসময়ে শিলিগুড়িতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪৬ মিলিমিটার। ফলে মহানন্দা সহ শহরের ছোট-বড় সমস্ত নদী ফুঁসে উঠেছে। মহানন্দার জলস্তর বর্তমানে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে বইছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর অক্টোবরের বিধ্বংসী বন্যায় বালাসনের মূল সেতুর ৩ নম্বর পিলারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিপর্যয় মোকাবিলায় তড়িঘড়ি সেখানে এই বিকল্প হিমপাইপ সেতুটি তৈরি করা হয়। তবে পাহাড়ি নদীতে জল বাড়লেই এই অস্থায়ী কাঠামোটি বারবার ভেঙে পড়ছে, যার জেরে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন।
আপাতত নদীর স্রোতের তীব্র বেগ বজায় থাকায় কোনো রকম মেরামতির কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। সেচ ও পূর্ত দপ্তর পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বালাসনের জলের তোড় কমলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দুধিয়ার ডাইভারশনটি সংস্কারের কাজ ফের হাতে নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা যায়।
