Breaking News
 
Chinmoy Prabhu: চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতায় ফের বিক্ষোভ, সন্ন্যাসীদের মিছিলে পুলিশি বাধায় উত্তেজনা Flydubai Attack: ৯/১১-র পর বিমানে ‘অস্ত্র’ নিয়ে বড় বদল, সেই নিয়মের সুযোগেই জঙ্গি হামলা? প্রকাশ্যে সরকারি বিবৃতি Siliguri Cow Smuggling Row: গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু যুবকের, ভাঙচুর একাধিক গাড়ি, উত্তেজনা WB Special Ration Package: পুজোর আগে রেশনে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’! অর্ধেক দামে ময়দা-চিনি-সুজি, জানুন বিস্তারিত Suvendu on Mamata : নন্দীগ্রামে মমতার চোট নিয়ে ফের তদন্তের নির্দেশ, রিপোর্ট হাতে শুভেন্দু, ভোটের পর শুরু তদন্ত প্রক্রিয়া Bayron Biswas: বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ ঋতব্রতপন্থী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস, শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

Cooking

3 months ago

Jamai Sasthi Special: স্বাস্থ্যসচেতন জামাই? ষষ্ঠীর ভূরিভোজে থাকুক সুস্বাদু অথচ স্বাস্থ্যকর পদ

Healthy Recipes  for your Fitness freak Son-in law
Healthy Recipes for your Fitness freak Son-in law

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব জামাইষষ্ঠী। শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এই দিনটি জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার এক বিশেষ বন্ধন। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনার মাধ্যমে পালিত হয় এই উৎসব। সেই সঙ্গে বিবাহিত কন্যা ও জামাইকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে আপ্যায়ন করার দীর্ঘদিনের প্রথাও আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও জামাইষষ্ঠীর আবেগে ভাটা পড়েনি। বরং শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র এই দিনটিকে ঘিরে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি। শাশুড়িদের কাছে এটি যেন সারা বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক অনুষ্ঠানের একটি। জামাইয়ের পছন্দ-অপছন্দের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় রান্নার পরিকল্পনা।  ঐতিহ্য অনুযায়ী, সকালে ষষ্ঠীদেবীর পুজোর পর জামাইকে আশীর্বাদ করা হয়। এরপর শুরু হয় আপ্যায়নের পালা। ফল, মিষ্টি ও দই দিয়ে বরণ করার পর মধ্যাহ্নভোজে সাজানো হয় নানা রকম সুস্বাদু পদ। মাছ, মাংস, পোলাও, চাটনি, পায়েস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন— সবকিছুই থাকে জামাইয়ের পছন্দ অনুযায়ী।

কিন্তু এ তো গেল ভোজনরসিক জামাইয়ের কথা। তবে এমন জামাইও তো আছেন, যিনি স্বাস্থ্যসচেতন। জিমে গিয়ে কসরত করেন। কারও আবার প্রেসার ‘হাই’। কেউ আবার ডায়াবিটিসের রোগী। তেলমশলা, চিনি দিয়ে তৈরি পদে যাঁদের আপত্তি, তাঁদের জন্য জামাইষষ্ঠীর মেনু কী ভাবে সাজাবেন, তা নিয়ে অনেক শাশুড়ির রাতের ঘুম উড়েছে। স্বাস্থ্যসচেতন জামাইয়ের ষষ্ঠীর থালায় অল্প তেলমশলা দিয়ে তৈরি এমন কী পদ রাখা যায়, যা খেতেও সুস্বাদু হবে, রইল হদিস।

∆ স্টার্টারে এঁচোড়ের কাটলেট আর চিংড়ির কবাব:

এয়ার ফ্রায়ারেই হবে মুচমুচে কাটলেট— প্রথমে নুন, হলুদ দিয়ে এঁচোড় আর আলু সেদ্ধ করে নিন। জল ঝরিয়ে ভাল করে মেখে নিন। এ বার কড়াইয়ে তেল সামান্য গরম করে তাতে আদা বাটা দিন। মশলায় হলুদ, জিরে আর লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। ‌মশলা থেকে তেল ছেড়ে এলে এঁচোড় আর আলুর মিশ্রণ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি শক্ত হয়ে এলে একে একে লেবুর রস, গরমমশলাগুঁড়ো, ভাজামশলার গুঁড়ো দিয়ে আরও কিছু ক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। কড়াই থেকে নামিয়ে মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। তার পর মিশ্রণটি থেকে ছোট ছোট মণ্ড বানিয়ে কাটলেটের আকার দিন। কাটলেট ভাজলে চলবে না। এয়ার ফ্রায়ারে অল্প তেল ব্রাশ করে কাটলেটগুলি সেঁকে নিন। এ ভাবে ভাজলে কাটলেট মুচমুচে হবে, আবার ডুবো তেলে ভাজতেও হবে না।

খুব বেশি মশলা ছাড়াই চিংড়ির অন্য ধরনের কবাব— চিংড়িমাছগুলি ভাল করে পরিষ্কার করে নিন, মাথা ফেলার প্রয়োজন নেই। কড়াইয়ে সামান্য তেল দিয়ে মাছগুলি ভেজে নিন।একটি মিক্সিতে মা‌ছগুলি নিয়ে সামান্য জল দিয়ে বেটে নিন। একটি বড় বাটিতে চিংড়িমাছবাটা, ভিজিয়ে জল ঝরানো পাউরুটি, ভাজা পেঁয়াজ, ধনেপাতা, আদা-রসুন বাটা, নুন, হলুদ, গোলমরিচগুঁড়ো, লেবুর রস আর খুব সামান্য তেল দিয়ে মেখে নিন। গোটা মিশ্রণটি ফ্রিজে ঘণ্টাখানেক রেখে দিন। এর পর শিকের মধ্যে মাছের মিশ্রণটিকে ভাল করে মুড়ে দিন শিক কবাবের মতো করে। অভেনে গ্রিল করে নিন কবাবগুলি। মাঝে তেল মাখিয়ে নিতে হবে। উপর থেকে লেবুর রস ছড়িয়ে, পুদিনার চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন চিংড়ির শিক কবাব।

∆ মেন কোর্সে দেরাদুন চালের ঝরঝরে ভাতের সঙ্গে কুচো চিংড়ির লাউ মুসুরি, তিল-পটল, আমআদা ভেটকি, ইলিশের রোস্ট, গন্ধরাজ মুরগিবাটা, কালোজামের ভর্তা:

অন্য রকম ডাল— নুন, হলুদ দিয়ে মুসুর ডাল আর ডুমো করে কেটে রাখা লাউ সেদ্ধ করে নিন। কড়াইয়ে খুব সামান্য তেল দিয়ে কালোজিরে, শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। পেঁয়াজকুচি, রসুনকুচি, টম্যাটোকুচি, কাঁচালঙ্কাকুচি, হলুদগুঁড়ো দিয়ে কষিয়ে নিন। মশলা কষানো হয়ে গেলে পরিষ্কার করে রাখা কুচো চিংড়ি দিয়ে ভেজে নিন। সেদ্ধ করে রাখা লাউ আর ডাল দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। উপর থেকে ধনেপাতাকুচি ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে কুচো চিংড়ির লাউ মুসুরি।

স্বাদবদলের পটলের পদ— মাঝারি মাপের পটল নিয়ে ভাল করে পরিষ্কার করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। টুকরো করার প্রয়োজন নেই। ননস্টিক কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে পটলগুলি নুন, হলুদ মাখিয়ে ভাল করে ভেজে নিন। পটল ভাজা হয়ে গেলে কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে সামান্য নাড়াচড়া করে নিন। একটি বাটিতে সাদা তিলবাটা, চারমগজবাটা ও দই নিয়ে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কড়াইতে দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। তিলের কাঁচা গন্ধ চলে গেলে সামান্য জল দিয়ে দিন। পরিমাণ মতো নুন দিয়ে নাড়াচড়া করে ঢাকা দিয়ে দিন। মিনিট পাঁচেক পর ঢাকা খুলে এক চামচ সর্ষের তেল ছড়িয়ে গ্যাসের আঁচ বন্ধ করে দিলেই তৈরি তিল-পটল।

ফ্রাই নয়, মেনুতে থাক আমআদা ভেটকি— ভেটকির ফিলেগুলি নুন আর লেবু দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। সাদা সর্ষে, নুন, হলুদ, কাঁচালঙ্কা আর সামান্য জল দিয়ে বেটে নিন। আগে থেকে মেখে রাখা মাছের সঙ্গে বেটে রাখা মশলা, সামান্য সর্ষের তেল, টক দই, আমআদা বাটা, নুন, চিরে রাখা কাঁচালঙ্কা দিয়ে মেখে স্টিলের টিফিন কৌটোয় ভরে আধ ঘণ্টা ভাপিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে আমআদা ভেটকি।

কম মশলার রোস্ট, তা-ও আবার ইলিশ দিয়ে— প্রথমে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, কাঁচালঙ্কা মিক্সিতে বেটে নিন। এ বার একটি বড় পাত্রে মাছের সঙ্গে পেঁয়াজের মিশ্রণ, দই, নুন, লঙ্কার গুঁড়ো, বেসন খুব ভাল করে মেখে রেখে দিন আধ ঘণ্টা। একটি ননস্টিক কড়াইয়ে ১ চামচ ঘি গরম করে তাতে শুধু মাছগুলি হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। এ বার সেই ঘিয়েই মাছের গায়ে মাখানো মশলাটি দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। প্রয়োজনে সামান্য জল দিতে পারেন। মশলা থেকে তেল ছেড়ে এলে শুকনো লঙ্কা, এয়ার ফ্রায়ারে বানানো মুচমুচে বেরেস্তা আর মাছগুলি দিয়ে মিনিট পাঁচেক ঢেকে রান্না করলেই তৈরি হয়ে যাবে ইলিশের রোস্ট।


পাঁঠা ব্রাত্য, মুরগি দিয়েই বানিয়ে ফেলুন গন্ধরাজ মুরগিবাটা— নুন দিয়ে হাড় ছাড়া মুরগির মাংস সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ করা মুরগির মাংস মিক্সিতে বা শিলে বেটে নিন। এ বার ননস্টিক কড়াইয়ে সামান্য তেল দিয়ে পেঁয়াজ ভেজে নিন। আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এ বার টক দইতে নুন, লঙ্কাগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, গোলমরিচগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো, কাঁচালঙ্কাকুচি মিশিয়ে কড়াইয়ে দিয়ে দিন। মশলায় দিয়ে দিন গন্ধরাজ লেবুপাতাকুচি। তার পর বেটে রাখা মুরগির মাংস দিয়ে খুব ভাল করে কিছু ক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। শেষে উপর থেকে ধনেপাতাকুচি, গন্ধরাজ লেবুর রস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

চাটনি নয়, থাকুক জাম ভর্তা— জামগুলি ভাল করে ধুয়ে নিয়ে হাত দিয়ে মেখে নিন। বীজগুলি আলাদা করে নিন। এ বার জামের সঙ্গে কাঁচালঙ্কাকুচি, চাটমশলা, লঙ্কাগুঁড়ো, বিট, লেবুর রস দিয়ে খুব ভাল করে মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে জাম ভর্তা। 

জামাই স্বাস্থ্যসচেতন বলে জামাইষষ্ঠীর মেনুতে মিষ্টি থাকবে না, তাই আবার হয় নাকি। মিষ্টিমুখের জন্য এমন রেসিপিও আছে যাতে চিনি না দিলেও চলবে। মেনুতে থাকুক এমন দু’টি মিষ্টির পদ, যাতে চিনির নামমাত্র নেই।

শেষপাতে আপেলের ক্ষীর, আমের রাবড়ি আইসক্রিম, আমের ভাপা সন্দেশ— 

আপেলের ক্ষীরেই জমবে ভূরিভোজ:  কড়াইতে এক চামচ ঘি দিয়ে কাজু, কিশমিশ আর বেশ খানিকটা খেজুরকুচি ভেজে তুলে রাখুন। সেই ঘিতে গ্রেট করে রাখা আপেল দিয়ে খানিক ক্ষণ ভেজে নিন। এ বার আগে থেকে গাঢ় করে রাখা দুধ দিয়ে মিশ্রণটি ফুটতে দিন। তত ক্ষণে খেজুরের মিশ্রণটি সামান্য দুধ দিয়ে বেটে নিন। এ বার বাটা মিশ্রণটি দুধে দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটতে দিন। শেষে গোলাপজল আর পেস্তা-কাঠবাদাম কুচি ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন আপেলের ক্ষীর। 

সন্দেশে আমের ট্যুইস্ট: একটি মিক্সিতে আমের টুকরো নিয়ে পাতলা মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এ বার কড়াইয়ে আমের মিশ্রণটি জ্বাল দিতে থাকুন। ঘন হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। মিক্সিতে ছানা, গুঁড়ো দুধ, কাঁচা আমের মিশ্রণ ভাল করে ঘুরিয়ে একটি মিহি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এ বার একটি কেক বেক করার চৌকো বাটিতে বাটার পেপার রেখে খানিকটা ঘি মাখিয়ে নিন। তার পর আমের মিশ্রণটি ঢেলে মিনিট ২০ ভাপিয়ে নিন। ভাপানোর পর সন্দেশটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে চৌকো চৌকো করে কেটে নিন। তা হলেই তৈরি হয়ে যাবে আমের ভাপা সন্দেশ।

You might also like!