
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে শুধু পুজো-প্যান্ডেল আর আড্ডা নয়, সঙ্গে জমিয়ে পেটপুজোও। পুজোর কয়েকটা দিনে আমিষ-নিরামিষ মিলিয়ে নানা রকমের পদ দিয়ে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেইসব সুস্বাদু পদ চাইলে খুব সহজেই বাড়িতেও তৈরি করা যায়। রইল তেমনই তিনটি সহজ রেসিপির সন্ধান।
• রাইবেগুন: বেগুন (২টি)
সরষে বাটা (১ চা-চামচ)
পোস্ত বাটা (১ চা-চামচ)
নারকেলের দুধ (আধ কাপ)
কারিপাতা (৪-৫টি)
সরষের তেল, নুন, হলুদ ও চিনি পরিমাণমতো।
প্রণালী: বেগুন মাঝখান দিয়ে কেটে সমান দুই ভাগ করে নিন। টুকরোগুলিতে নুন ও হলুদ মাখিয়ে সরষের তেলে ভালো করে ভেজে তুলে রাখুন।
অন্য একটি পাত্রে সরষে বাটা, পোস্ত বাটা ও নারকেলের দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে রাখুন। তেলে কারিপাতা দিয়ে ফোড়ন দিন। গন্ধ বের হলে সরষে-পোস্ত-নারকেলের দুধের মিশ্রণটি কড়াইতে ঢেলে দিন। নুন, হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে ভেজে রাখা বেগুন দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ ভালোভাবে মিশে গেলে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু রাইবেগুন।
• বাদশাহী ছানা: দুধ (১ লিটার)
শা-জিরা (১ চা-চামচ)
শুকনো (লঙ্কা ২টি)
তেজপাতা (২টি)
পোস্ত বাটা (১ টেবিলচামচ)
কাজু বাটা (১ টেবিলচামচ)
কিশমিশ বাটা (১ টেবিলচামচ)
ক্রিম (আধ কাপ)
মাখন, সাদা তেল, নুন ও চিনি পরিমাণমতো।
প্রণালী: পাতলা কাপড়ে ছানা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখুন, যাতে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। এক ঘণ্টা পর কাপড় থেকে ছানা বের করে, সঙ্গে নুন ও চিনি ভালোভাবে মেখে নিন। মাখা ছানা থেকে ছোট ছোট বড়া তৈরি করে সাদা তেলে ভেজে তুলে রাখুন। একই তেলে শা-জিরা, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। গন্ধ বের হলে পোস্ত বাটা, কাজু বাটা ও কিশমিশ বাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো নুন ও চিনি মেশান।
তেল ছাড়তে শুরু করলে ক্রিম দিন। এবার ভেজে রাখা ছানার বড়াগুলি একে একে গ্রেভির মধ্যে দিয়ে দিন। উপর থেকে মাখন ছড়িয়ে কড়াই ঢেকে কিছুক্ষণ রান্না হতে দিন। কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে কিশমিশ ছড়িয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
• ভোগের পাঁঠার মাংস: পাঁঠার মাংস (১ কেজি)
দই (৩০০ গ্রাম)
ধনে গুঁড়ো (১ টেবিলচামচ)
জিরে গুঁড়ো (১ টেবিলচামচ)
আদা বাটা (১ টেবিলচামচ)
গরম মশলা বাটা (১ টেবিলচামচ)
তেজপাতা (৪-৫টি)
আলু (৫টি)
ছোট এলাচ, বড় এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ
নুন ও চিনি পরিমাণমতো।
প্রণালী: দইয়ের সঙ্গে ধনে গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, আদা বাটা, গরম মশলা বাটা, নুন ও হলুদ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পাঁঠার মাংসে ভালোভাবে মাখিয়ে অন্তত ৬ ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখুন। কড়াইতে সরষের তেল গরম করে আলু লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন। একই তেলে তেজপাতা, গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিন। গন্ধ বের হলে ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। তারপর ঢাকা দিয়ে কম আঁচে প্রায় ২৫ মিনিট রান্না হতে দিন। নামানোর আগে মাংস সেদ্ধ হয়েছে কি না, দেখে নিতে হবে।
২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে মাংসটি আরও একবার ভালো করে নেড়ে নিন। এবার ভেজে রাখা আলুগুলি মাংসের মধ্যে দিয়ে দিন। আলুগুলি যেন মাংসের উপরে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। তা না হলে গ্রেভির নীচে চলে গিয়ে আলু অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে গলে যেতে পারে।
