West Bengal

1 hour ago

R N Ravi : নারী সুরক্ষা, জনবিন্যাস ও পরিষেবার প্রতিশ্রুতি— বাজেট ভাষণে নতুন দিশার ইঙ্গিত

রাজ্যপাল আর এন রবির (R N Ravi)
রাজ্যপাল আর এন রবির (R N Ravi)

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বাজেট অধিবেশনের সূচনা ভাষণে রাজ্য সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন। রাজ্যপালের ভাষণেও সেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইনে’র বার্তা। 

বৃহস্পতিবার শুরু হল বিজেপির সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন (West Bengal Budget Session)। রীতি মেনে রাজ্যপাল আর এন রবির (R N Ravi) বক্তৃতা দিয়েই অধিবেশন শুরু হয়। চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। ২২ তারিখ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আজ অধিবেশনের সূচনা ভাষণে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথাই বলেন রাজ্যপাল। বলেন, “অনুপ্রবেশে বদলেছে বাংলার জনবিন্যাস। তা রুখতে রাজ্য সরকার রুখতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর শুরু হয়েছে।” নারী নিরাপত্তা ও শিশু নির্যাতনে রাজ্যের জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “রাজ্যে তোলাবাজি, দুষ্কৃতীরাজের অবসান হয়েছে। মানবপাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বছরের পর বছর দখল করে রাখা জমি উদ্ধার করে শিল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে রাজ্যে।” পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোরও প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। জানালেন, রাজ্যে লাগু হবে জাতীয় শিক্ষানীতি। খোলা হবে বন্ধ চা বাগান। সব মিলিয়ে রাজ্যপাল বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার মানুষের আর ভয় নেই। ভরসার হাত রয়েছে তাঁদের মাথার উপর। এদিনের বাজেট ভাষণে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কথাও শোনা যায় রাজ্যপালের মুখে।

রাজ্যপাল রবি বলেন, ”সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য জমিও বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” শুধু তাই নয়, সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। রাজ্যপালের কথায়, রাজ্যের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষাই অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জনগণনা যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাও এদিন রাজ্যপাল আর এন রবির বক্তব্যে উঠে আসে।

অনুপ্রবেশের জন্য জনবিন্যাস পালটে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির! জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তৈরি হয়েছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ! বঙ্গপ্রচারে এসে বারবার এই ইস্যুতে সুর চড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে অনুপ্রবেশের কথা। তবে রাজ্যে পালাবদলের পরেই দ্রুত সীমান্ত এলাকা সিল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পরেই সীমান্তে কাঁটাতার দিতে পর্যাপ্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া আইন কার্যকর হয়েছে।

যেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশিদের আর আদালতে তোলা হবে না। সোজা বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হবে। এরপরেই সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ভিড় দেখা যায়। এই আবহেই আগামী ১ আগস্ট থেকে জনগণনার কাজ শুরু হচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে এদিন জনবিন্যাস বদল নিয়ে রাজ্যপালের মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।  বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের সূচনা ভাষণে মেট্রোর কাজ আটকে রাখার জন্য তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল। বললেন, “দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল মেট্রোর কাজ। নতুন সরকার এসে তা শুরু করেছে।”

বর্তমানে রাজ্যের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। ঠিক না ভুল, তা নিয়ে নানামুণির নানামত। ভাষণে রেলের জমি পুনরুদ্ধারের কথাও শোনা গেল রাজ্যপালের মুখে। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা জমি পুনরুদ্ধার হচ্ছে।” উল্লেখ্য, রেলের জমি দখল করে রাখা হয়েছে। এই দাবিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রাজ্য। যদিও পুনর্বাসন না দিয়ে কেন উচ্ছেদ, তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল বামেরা। বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছে, লাইসেন্স থাকলে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে আপাতত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। 

You might also like!