
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রে একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন রজতাভ দত্ত। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’ এবং ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এ নজরকাড়া অভিনয়ের পর এবার তাঁকে দেখা যাবে একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে পরিচালক সৌভিক ভট্টাচার্যের নতুন ছবি ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’।
ছবিটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে ইডিয়ট বাক্স। চিত্রনাট্য লিখেছেন সৌরভ মালাকার। সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন গৌরবময় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন শুভদীপ মজুমদার। ক্যামেরার পিছনে রয়েছেন সুদীপ্ত মজুমদার। গল্পের কেন্দ্রবিন্দু উত্তর কলকাতার এক পুরনো পাড়া এবং সেই পাড়ার বাসিন্দা নির্মল ভট্টাচার্য। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও নিজের বাড়ির শেষ অংশটুকু আগলে রাখতে প্রতিদিন যেন এক নীরব লড়াই চালিয়ে যান তিনি। একগুঁয়ে, অভিমানী অথচ গভীরভাবে মানবিক এই চরিত্রেই অভিনয় করেছেন রজতাভ দত্ত।
নির্মলের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় পাড়ার এক যুবক বাবলা। এই চরিত্রে দেখা যাবে সায়ন ঘোষকে। প্রজন্মের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও দুই মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা এক আন্তরিক সম্পর্কই ছবির অন্যতম আকর্ষণ। হাসি, আবেগ এবং জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তে ভরপুর এই সম্পর্ক দর্শকদের মনে আলাদা ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছেন নির্মাতারা। গল্পে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মিনতি। নির্মলের বাড়ির কাজের লোক হলেও বাস্তবে সে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ। সুখ-দুঃখ, একাকিত্ব এবং প্রতিদিনের লড়াইয়ের নীরব সাক্ষী মিনতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন বৈশাখী রায়।
শিরোনাম শুনে প্রথমে হাস্যরসাত্মক মনে হলেও ছবির বিষয়বস্তু অনেক গভীর। শহরের প্রায় প্রতিটি দেওয়ালে লেখা ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’— এই বহুল পরিচিত সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এক অনন্য মানবিক কাহিনি। একটি নিষেধাজ্ঞার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষগুলোর জীবন, সম্পর্ক, অভিমান ও টিকে থাকার গল্পই তুলে ধরা হবে এই ছবিতে। হাস্যরসের মোড়কে সামাজিক বাস্তবতা এবং মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম রসায়ন নিয়ে তৈরি ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’ বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য হতে পারে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
