International

56 minutes ago

Donald Trump : রুশ তেল কেনা নিয়ে মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, ট্রাম্পকে নিশানা জয়শংকরের

External Affairs Minister S. Jaishankar
External Affairs Minister S. Jaishankar

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রশ্নে মার্কিন সমালোচনার তীব্র জবাব দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ফিনল্যান্ডে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং রুশ তেল কেনাকে কোনওভাবেই মস্কোর প্রতি রাজনৈতিক পক্ষপাত হিসেবে দেখা উচিত নয়।এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে জয়শংকর বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশই নিজেদের প্রয়োজন ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির সমালোচনা করে ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটনের অবস্থানে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বুঝিয়ে দেন, অন্য দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের জ্বালানি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

২০২২ থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমের একাধিক দেশ রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। যদিও জার্মানির মতো বহু দেশেই রুশ গ্যাস আমদানি এখনও অব্যাহত। রুশ গ্যাস না থাকলে জার্মানি কার্যত অচল হয়ে পড়বে, এমনটাই শোনা যায়। সেসময়ে কমদামে রুশ তেল কেনা শুরু করে ভারত। হুহু করে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রথম থেকেই এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা। কিন্তু নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান ছিল, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যেখান থেকে তেল আমদানি লাভজনক, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছেন জয়শংকর থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে সতর্ক করার আগে পশ্চিমি দেশগুলি নিজেরা যেন রুশ পণ্য পুরোপুরি বয়কট করে। 

ভারতকে ‘নির্দেশ’ দেন ট্রাম্প, রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ। তেলের বাজার একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেসময়ে ভারতকে রুশ তেল কেনার ‘অনুমতি’ও দেয় আমেরিকা।

এই গোটা বিষয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনাই প্রমাণ হয় বলে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন জয়শংকর। তিনি বলেন, “প্রথমে রুশ তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হল। তারপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নেওয়া হল। তাই তেল কেনাবেচার সঙ্গে নৈতিকতা বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলি অহেতুক জড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।” নাম না করে জয়শংকরের খোঁচা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ট্রাম্প যেভাবে নৈতিকতাকে ব্যবহার করছেন, সেটা না করাই উচিত। তিনি আরও বলেছেন, যখন আমেরিকার প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়। পুরোটাই নির্ভর করছে মার্কিন সুবিধা-অসুবিধার উপর। 

You might also like!