
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় সহযোগিতার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।বৈঠক-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে কিছু সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এ নিয়ে কোনও বিস্তৃত বা নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। লাহিড়ী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে বলার মতো নির্দিষ্ট কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গক্রমে রাজ্যের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং সেই কারণে কিছু সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।” ফলে নীতি আয়োগের বৈঠকে বাংলার দাবি-দাওয়ার কথা উঠলেও, আপাতত তার পরিণতি ভবিষ্যতের আলোচনার উপরেই নির্ভর করছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রথমবার অংশ নিয়ে শুভেন্দু বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলি তুলে ধরেন। কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের প্রশ্নেও তিনি কেন্দ্রের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ নতুন অধ্যায়ের জন্য তৈরি। পাশাপাশি, তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেন। শিলিগুড়িকে নতুন এডুকেশন-হাব গড়ে তোলার কথা তুলে ধরেন। আবার উত্তরবঙ্গে এইমস ও আইআইএম তৈরির কথাও বৈঠকে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার আবহের মধ্যেও ভারত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টাই আগামী দিনের অগ্রগতির চাবিকাঠি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের বৈঠকে দেখা গিয়েছে বিরল ‘ফুল হাউস’। বৈঠকে দেশের সবকটি, ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অংশ নেন। অতীতে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির বয়কট বা অনুপস্থিতির নজির থাকলেও এবার সেই ছবি বদলেছে।
