
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার সরব হলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। নিজের স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তীব্র সমালোচনা করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-এর মন্তব্যের।
রাহুলের মৃত্যু নিয়ে সৌরভের করা মন্তব্য—“জলে-টলে কেন নামল”—নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বস্তিকা। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের শব্দচয়ন কোনও গুরুতর ঘটনাকে হালকা করে দেখানোর ইঙ্গিত দেয়। একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিত্ব হিসেবে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। স্বস্তিকা আরও বলেন, ‘আমি তো সৌরভ গাঙ্গুলির মতো বিজ্ঞ নই, যে সব বিষয়ে মন্তব্য় করব। যে রাহুলের মৃত্যু নিয়ে উনি বলেছেন, জলে-টলে কেন নামল। বাঞ্জি জাম্পিং-টাম্পিং কেন করা হয়? আমরা যখনই এই ধরণের শব্দ ব্যবহার করি জল-টল, হেনা-তেনা, তখন বিষয়টাকে খুব ছোট করে দেখানোর প্রবণতা আছে। আমাদের ভাষার মধ্য়েই বিষয়টাকে ছোট করা হয়ে যায়। ওঁনার মতো আন্তর্জাতিক এক ক্রিকেট তারকার আরেকটু কনসাস হওয়া উচিত ছিল না?’ স্বস্তিকা স্পষ্ট বলেন, কোনও ক্রিকেটারের মৃত্য়ু হলে, তাঁর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি এমন শোকজ্ঞাপন করতে পারবেন তো?’
এছাড়াও তিনি বলেন, 'উনি সৌরভ গাঙ্গুলি হয়ে এসি ফ্লোরের মধ্য়ে নন-ফিকশনের শ্য়ুটিং করেন। কিন্তু শ্যুটিং-ফুটিং ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবে হয়-টয়. সেটা ওঁনার জানার কথা নয়। কারণ উনি এতই বড়মাপের স্টার যে ওঁনার অসুবিধা-টসুবিধাগুলো হওয়ার কথা নয়। উনি কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করবেন, উনি যা চাইবেন ওঁনাকে তাই দেওয়া হবে। এই মন্তব্য়টাই করা উচিত নয়'। স্বস্তিকা বলেন, গোটা বিষয়টা সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের ভাবনার বাইরে। তাঁর কথায়, ‘আরজি করের সময় থেকেই দেখছি উনি এই ধরণের মন্তব্য করেন’। একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, শিল্পীরা যদি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে তাঁদের সহজেই কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ‘প্রোডাকশন-ফ্রেন্ডলি নন’ তকমা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুর পর থেকেই শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই আবহে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সৌরভের অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছিলেন স্বস্তিকা। এবারও সেই ক্ষোভই প্রকাশ পেল তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে।
