Editorial

1 year ago

Spam Call and Daily Life : বিরক্তির স্প্যামকলের গুঁতোয় ত্রস্ত জীবন

Spam Call and Daily Life (Symbolic Picture )
Spam Call and Daily Life (Symbolic Picture )

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ দিনে নয় নয় করে  অকারন ৩ থেকে ৪ বার বেজে উঠছে ফোনটা, রিসিভ করলেই শুনছি  ‘হোমলোন’ লাগবে না কী? আচ্ছা পারসোনাল লোন নেবেন? একেবারে লো ইন্টারেস্ট! ক্রেডিট কার্ড নিন অনেক সুবিধা পাবেন তাতে! এমন না জানি আরো কত রকম অবাঞ্ছিত কথাবার্তা। শুধু স্প্যামকল নয় সাথে অবাঞ্ছিত মেসেজ। শুধু তাই নয় কোনও বড় ব্র্যান্ডের দোকান বা মল-এ কিছু কিনতে গেলে ওরা মোবাইল নম্বর চায়। তার পরেই মেসেজ করতে থাকে অবিরত। যা বড়োই বিরক্তির কারন। 

প্রতিনিয়ত আরবিআই-এর লোগো দেওয়া সতর্কবার্তা আসছে যে, কোনও ওটিপি অন্যকে না দিতে বা কোনও লিঙ্ক দেওয়া মেসেজে ক্লিক না করতে।উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই ট্রাই স্প্যাম কল অপ্রয়োজনীয় মেসেজ ও ফ্ল্যাশ মেসেজ বন্ধের বিষয়ে আরও কড়া হওয়ার কথা বলেছে (ফোনে অবাঞ্ছিত বার্তা আটকাতে আরও কড়া ট্রাই, ২৬-৫)। এমন পদক্ষেপ যথাযথ।  


আসলে নিয়ম তো মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থারাই ভাঙছে। প্রতি দিন প্রচুর অপ্রয়োজনীয় মেসেজ আসছে। একটা লিঙ্ক দিচ্ছে আর বলছে স্প্যাম কল, মেসেজ, ফ্ল্যাশ মেসেজ বন্ধ করার জন্য ওই লিঙ্ক ব্যবহার করতে। কিন্তু আমরা ওই লিঙ্কে ক্লিক করব যে সত্যি বলছি তার সাহস নেই।প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে না না ধরনের সাইবার ক্রাইমের খবর। প্রসঙ্গত,বর্তমানে সমস্ত অত্যাবশ্যক পরিসেবা গুলির ক্ষেত্রে অ্যাপ সিস্টেম চালু করেছে কম বেশী সমস্ত সংস্থাই। অ্যাপ অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা জনক। তবে এটি ব্যাবহারের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অ্যাাপ সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে ভাল করে শুনে, বিভিন্ন নম্বরে বোতাম টিপে অভিযোগ করতে হয়, যা বয়স্ক লোকেদের পক্ষে অসম্ভব। 

এই ধরনের অবাঞ্ছিত যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে যদিও প্রযুক্তি রয়েছে, ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ এই অ্যাপের দ্বারা কিছুটা হলেও এমন অবাঞ্ছিত ফোনকল থেকে নিস্কৃতি মিললেও , পুরোপুরি ভাবে নিস্কৃতি মেলে না। এ থেকে ভাল এমন প্রযুক্তি আনতে হবে যাতে শুধু প্রয়োজনীয়, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু এবং নিজের ব্যাঙ্ক ও বিমা কোম্পানির কলই আসবে। 



বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটা দিন ব্যস্ততার মধ্যেই কাটে, প্রযুক্তির জালে কমবেশী বন্দি আমরা সকলেই। ওয়েব জালে জড়িয়ে রয়েছি আমরা সকলেই, বর্তমান প্রজন্ম দিনে ১০-১২ ঘন্টা মোবাইল, ল্যাপটপ, অথবা না না প্রকার গ্যাজেট নিয়ে কাজ করছে, সেখানে মানসিক প্রশান্তি জন্য কিছুটা সময় এই সকল প্রযুক্তির থেকে নিজেকে কিছুটা সময় নিজেকে সরিয়ে রেখে মেডিটেশন, ভাল গান শোনা বা ভাল বই পড়ার মত কাজ করার প্রয়োজন।কিন্তু সে হবার উপায় নেই, বর্তমান প্রজন্মকে গ্রাস করছে প্রযুক্তির করাল গ্রাস। তার মধ্যে অন্যত্তম এই স্প্যামকলের অযাচিত আগমন। ওয়ার্কিং আওয়ার হোক বা তার বাইরে যখন তখন বাজতে থাকছে আপনার আমার মুঠোফোন।


তবে বর্তমান প্রজন্মের উচিত নিজের জন্য অন্তত কিছুটা সময় নিজেকে দেওয়া, যদি অবসরের এই সময় টুকুও প্রযুক্তির গ্রাসে চলে যায় সেক্ষেত্রে এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষ আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্সের বসবর্তী হয়ে পড়বে এবং মানুষ কার্যত হিউম্যান রোবোট এ পরিনত হতে বেশী দিন আর সময় নেই। সেক্ষেত্রে এই ধরনের স্প্যামকল ও মেসেজ থেকে নিস্কৃতি পেতে তেমন কোনো দৃঢ় ব্যবস্থা প্রয়োজন।

You might also like!