West Bengal

1 day ago

Abhishek Banerjee: ‘১০ গুণ জেদ আমার’, কপ্টার ইস্যু ‘বাংলা বিরোধীদের চক্রান্ত’-তিলাই ময়দানে অভিষেকের কড়া নিশানায় বিজেপি

Trinamool Congress national general secretary Abhishek Banerjee
Trinamool Congress national general secretary Abhishek Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটে নির্বাচনী প্রচারের পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কপ্টার ওড়ার অনুমতি না পেয়ে বাধার সম্মুখীন হন। এই 'পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ পরে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয় দলের তরফে। নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা দেরিতে রামপুরহাটে সভায় পৌঁছন অভিষেক। আর সেখানে পৌঁছে জনতার মাঝে উপস্থিত হয়ে সরাসরি বক্তব্য রাখেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। 

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিষেক দুপুর ১২টায় বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে রামপুরহাটের জন্য কপ্টার ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিজিসিএ অনুমতি না দেওয়ায় তিনি সরাসরি সেই সময়ে উড়তে পারেননি। তৎপর দলের নেতৃত্ব, হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার ব্যবহার নিশ্চিত করেন। এভাবেই বিকল্প পথে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রামপুরহাটে পৌঁছান। সভা শুরু হয় দুপুর ৩:৩৬ মিনিটে, যা মূল সময়ের তুলনায় প্রায় ২ ঘণ্টা দেরি। 

জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় অভিষেক বলেন, ”নির্বাচন শুরু হয়নি, দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। এসআইআরের মধ্যে দিয়ে সবে ভোটের দামামা বেজেছে। তার আগে থেকে বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমার হেলিকপ্টার সকাল ১১টায় ওড়ার অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেয়নি। আমারও ১০ গুণ জেদ। আমি মাঝে  ভেবেছিলাম, গাড়িতে আসব। ৫ ঘণ্টার রাস্তা। আমি বুদ্ধি খাটিয়ে পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কপ্টার আনালাম। তারপর তাতে চড়ে এলাম। তাই ২ ঘণ্টা দেরি হলো। কিন্তু জেদ থেকে সরিনি। বলেছিলাম, যত দেরি হোক, যাবই। ধমকানি, চমকানি, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত দিয়ে আটকানো যাবে না। মাথা নত করব না।” এদিন অভিষেকের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়, “যত বেশি বাধা দেবে বিজেপি, ততই ভোট আমাদের পাশে যাবে। আমরা চাই ‘আবার জিতবে বাংলা’। বীরভূমে এবারের নির্বাচনে ১১-০ করে দিতে হবে। বিজেপিকে শূন্য করে দিতে হবে।” তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশ্য দেন, “বীরভূমের ৩৬০০ বুথে লিড বাড়াতে হবে, প্রতিটি বুথে শক্তিশালী প্রচার চালাতে হবে।” 

রাজ্য রাজনীতিতে এদিনের ঘটনার তুলনা করা হয় গত ২০ ডিসেম্বরের নদিয়ার তাহেরপুর জনসভা সঙ্গে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবহাওয়ার কারণে সরাসরি সভা করতে পারেননি, এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। অভিষেক কিন্তু কোনো বার্তা বা সময় পিছানোর পরিবর্তে সরাসরি সভা করতে রামপুরহাটে পৌঁছান, যা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেকের বক্তব্য ও উপস্থিতি স্পষ্ট করেছে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা জনগণের সামনে সরাসরি প্রমাণ করতে পিছপা নয়। তিনি জানান, বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা যতই হোক, মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাধা দিতে পারবে না। রাজ্যের নির্বাচনের প্রাক্কালে মাসজুড়ে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিতে অভিষেক জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরছেন। এদিনের রামপুরহাট সভা তারই অংশ, যেখানে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্য দিয়েছেন ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং প্রতিটি বুথে কার্যক্রম জোরদার করার জন্য।


You might also like!