
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নিয়ম মেনে সমস্ত কাগজপত্র ও আবেদন জমা দেওয়া সত্ত্বেও DGCA হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি দেয়নি। কিন্তু হাজার জটিলতার পরও আকাশপথেই রামপুরহাটে পৌঁছলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, কেন অভিষেকের কপ্টারকে অনুমতি দেওয়া হল না। কারও ধারণা, নেপথ্যে রয়েছে রাজনীতির ছায়া। আবার কারও মতে, যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সত্যিটা এখনও ধোঁয়াশার আড়ালে। সবকিছুর মাঝেই অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন, কোনওভাবেই তাঁকে আটকে রাখা যাবে না। মানুষের জন্য যতটা পথ পাড়ি দিতে হয়, তিনি দেবেন। বুঝিয়ে দিলেন, কথা দিলে তিনি তা রাখতে জানেন।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তিনি যে হেলিকপ্টারে সফর করেন তা ডবল ইঞ্জিন, আর এমন কপ্টার ওড়ানোর জন্য ৭২ ঘণ্টা আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পাইলটের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, কপ্টারে আর কে থাকবেন—সব তথ্য নির্দিষ্ট করে আবেদন করতে হয়। বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে স্লট বুক করতে হয়। এরপর আবহাওয়া এবং অন্যান্য সমস্ত বিষয় যাচাই করে অসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তর (DGCA) অনুমোদন দেয়। অভিষেকের পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে সকাল ১১টায় অনুমতি পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোনও কারণ দেখানো ছাড়াই তা বাতিল করা হয়। এ নিয়ে গুঞ্জন ওঠে, অনুমতি জটিলতার নেপথ্যে বিজেপি থাকতে পারে, যার উদ্দেশ্য অভিষেকের সভা ভেস্তে দেওয়া। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিষেক যোগাযোগ করেন ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে। তাদের সহযোগিতায় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কপ্টার বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে পাঠানো হয়। উড়ান সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং সাংসদ রামপুরহাট পৌঁছান। উল্লেখযোগ্য, অভিষেক যে কপ্টার ব্যবহার করার কথা ছিল, সেটিতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে কি না, তা DGCA স্পষ্টভাবে জানায়নি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, অভিষেকের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, অনুমতি জটিলতার পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে।
অভিষেকের এই উদাহরণ পরিষ্কার করেছে, “যে কথা দেন, তা রাখেন।” সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন তাহেরপুরে সভার উদ্দেশ্যে কলকাতা এলেও আবহাওয়া কারণে পৌঁছতে পারেননি, তখন ভার্চুয়াল বার্তা দিয়েই ফিরে গেছেন। কিন্তু অভিষেক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানুষের কাছে পৌঁছেছেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এই সফরে দেখিয়েছেন, মানুষের জন্য পথ পাড়ি দেওয়া তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ। সমস্ত কাগজপত্র ঠিক থাকলেও অনুমতি না পেলে তিনি হতাশ হননি। নিয়ম মেনে, মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, তৃণমূলের বিকল্প নেই, এবং দলের নেতারা প্রতিশ্রুতি পূরণে সব বাধা পেরিয়ে মানুষের সঙ্গে পৌঁছাতে সক্ষম। মানুষকে আশ্বস্ত করতে অভিষেক বলেন, “যদি পথ পাড়ি দিতে হয়, আমি দেব। কথা দিলে আমি রাখব।”
