
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নেমেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। যতদিন না জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়ছেন, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে বিরোধীরা। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার ফের দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত রাজধানী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। তার সঙ্গে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। শুধু জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, দিল্লিতে তাঁর বাসভবন এবং নির্বাচন কমিশনের দফতরের বাইরেও অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকেই এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। রাজধানীতে বিরোধীদের লাগাতার কর্মসূচির আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে।
ভোটচুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে কোথাও পথে নেমে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও আবার পোড়ানো হচ্ছে কুশপুতুল। এরমধ্যে গত কয়েকদিন বিক্ষোভে আঁচ পৌঁছে যায় জ্ঞানেশ কুমারের বসতবাড়িতে। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আগরার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। বাড়ির ফটকে হিন্দিতে লিখে দেওয়া হয় ‘জ্ঞানেশ গদ্দার, জ্ঞানেশ চোর’ স্লোগান। কালো কালিতে লেখা সেই স্লোগান সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরেও দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে তাঁর আগরার বাড়িতে। এরপরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।
জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিল্লির বাড়ির সামনে অতিরিক্ত সিআইএসএফকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও কমিশনের সদর দপ্তরেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ভবনের ঢোকা, বেরনো-সহ একাধিক জায়গায় বাড়তি বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। এরসঙ্গেই জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীতেও অতিরিক্ত কর্মী যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি এক আধিকারিকের কথায়, জ্ঞানেশ কুমার জেড প্লাস সিকিউরিটি পান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কথায় মাথায় রেখে অতিরিক্ত বাহিনীকে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই আধিকারিকের কথায়, বেশ কিছুদিন আগেই আগরায় তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। আর সেই কারণেই পুলিশ পিকেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত।
শুধু সিআইএসএফ নয়, যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সংশ্লিষ্ট বাসভবন এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন বাড়ানোর জন্য স্থানীয় জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এহেন নির্দেশ সামনে আসার পরেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ কর্মীদের কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
