
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সই জালিয়াতি মামলায় পরপর তৃতীয়বার সিআইডির হাজিরা এড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন জানিয়ে তিনি তদন্তকারী সংস্থার কাছে আরও সময় চেয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে সিআইডি। এদিকে মামলায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। সেই মামলার শুনানিকে ঘিরেও রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সই জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডির নজরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তিনবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার অসুস্থতা, দ্বিতীয়বার কাজের ‘অজুহাত’, তৃতীয়বার দিল্লিতে রয়েছেন ও হাই কোর্টে মামলার কথা জানিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সই জাল কাণ্ডের তদন্তে রেজোলিউশনের কপির খোঁজে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সেখানে তল্লাশি চালান অফিসাররা। সূত্রের খবর, পরবর্তীতে অভিষেকের গতিবিধির খোঁজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিআইডি। অর্থাৎ তিনি ফিরলেই সিআইডির মুখোমুখি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে সিআইডির হাত থেকে রক্ষা পেতে আগেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। বুধে মামলার শুনানির সম্ভাবনা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করেই কলকাতা ফিরবেন ‘যুবরাজ’। তবে হাই কোর্টে ধাক্কা খেলে অভিষেককে যে প্রবল বিপাকে পড়তে হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবপত্রকে ঘিরেই শুরু হয় সই জালিয়াতি বিতর্ক। অভিযোগ, বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিধানসভার সচিবের নজরে বিষয়টি আসার পর এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। তদন্তে একাধিক বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিছু ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে সিআইডি। মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
এবার তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিযোগ করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। ২০১৮ সালের মারধরের ঘটনার জেরে এই এফআইআর। অভিযোগকারীর দাবি, তৃণমূল জমানায় পুলিশে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। এবার সুবিচার মিলবে।অভিজিৎ দাস ওরফে ববি দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে যে ঘটনার ভিত্তিতে এই অভিযোগ তা ২০১৮ সালের। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর আপ্ত সহায়কের পরিকল্পনায় ২০১৮ সালে ববির উপর হামলা চালানো হয়। ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি। কিন্তু উদ্ধার করতে এগোননি কেউ। পরবর্তীতে সেই ঘটনায় এফআইআর করেছিলেন তিনি। কিন্তু তৃণমূল জমানায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেই অভিযোগ।
এপ্রসঙ্গে অভিজিৎ ওরফে ববি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জন্য পঙ্গু হয়ে গিয়েছি। এখনও সিঁড়িতে উঠতে পারি না। অভিষেক আর ওর আপ্ত সহায়ক পুরো প্ল্যান করে আমার উপর অ্যাটাক করিয়েছিল। কীভাবে মেরেছিল সকলে জানেন। তখনও পুলিশকে জানিয়েছিলাম, কোনও লাভ হয়নি। এবার হবে।” প্রসঙ্গত, তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই কার্যত ‘ল্যাজে-গোবরে’ অবস্থা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পুরনো দুর্নীতি মামলা তো রয়েইছে। সেই সঙ্গে নতুন করে জুড়েছে সই জাল কাণ্ড। বারবার সিআইডি তলব এড়িয়ে যাওয়ায় বিপদ বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভোট প্রচারে অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে কিছুদিন আগেই অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। এবার নতুন করে জুড়ল আরও এক এফআইআর।
