
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় ফলতার জাহাঙ্গির খানকে। আদালত চত্বর তখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানে ঘিরে ছিল। সোমবার তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফলতায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, শ্রীরামপুরে তাঁর দলীয় কার্যালয়, তালাবন্ধ বাড়ি এবং একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তোলাবাজি, হুমকি, এলাকা দখল, বাড়ি ভাঙচুর ও হিংসা ছড়ানোর একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ফলতা এলাকায়। জনরোষের আশঙ্কায় মঙ্গলবার ভোরে ফলতা থানা থেকে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতের লকআপে আনা হয় বলে জানা গিয়েছে। সোমবার ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ, পরে বাগডোগরা হয়ে কলকাতায় আনা হয় এবং ফলতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে মোট ১১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটিতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলিতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
সোমবার জাহাঙ্গিরের যে কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে, স্থানীয়দের দাবি, জাহাঙ্গিরের ওই কার্যালয় থেকে মদের বোতল, ত্রাণসামগ্রী ও বিপুল পরিমাণ খামবন্দি চশমা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও স্বাস্থ্য শিবিরে বিতরণের জন্য বরাদ্দ চশমা প্রকৃত সুবিধাপ্রাপকদের না দিয়ে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই সব সামগ্রী ব্লক প্রশাসনের কাছে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
জাহাঙ্গিরের বাবা আকবর খান ছিলেন এলাকার নামকরা ওস্তাগর। তাঁর কাছেই জামাকাপড় সেলাই করা শেখেন জাহাঙ্গির। ২০০৮-এর পঞ্চায়েত ভোটে প্রথম বার জিতে জাহাঙ্গির পঞ্চায়েত সদস্য হন, ২০১৩-য় ফের জিতে হন পঞ্চায়েত প্রধান। ২০১৮-য় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ২০২৩-এ হন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হন। এ বার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি ছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। ভোটের আগে তর্জন গর্জন কম করেননি। তবে ভোটের ফলাফলে পাশা ঘুরতেই পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির।
