Country

1 hour ago

India Mobile Congress 2026: ভারত এখন ডিজিটাল সেবার স্রষ্টা হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, প্রধানমন্ত্রী

Prime Minister Narendra Modi
Prime Minister Narendra Modi

 

নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর : ভারত এখন কেবল ডিজিটাল সেবার উপভোক্তা নয়, স্রষ্টা হয়ে ওঠার লক্ষ্যে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।” বৃহস্পতিবার দিল্লির দ্বারকার যশোভূমিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস’-এর দশম সংস্করণের উদ্বোধন করে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠানে পৌঁছলে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান।

উদ্বোধনী ভাষণে দেশের টেলিকম ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের আমূল রূপান্তরের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে যেখানে পণ্যের ডিজাইন, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি —সবই গড়ে উঠবে এ দেশের মাটিতে। এই রূপান্তরকে গতি দিতে সরকার টেলিকম ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার সাধন করেছে। পুরনো আইন আধুনিকীকরণ করে নয়া 'টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট' প্রণয়নের মাধ্যমে আধুনিক নিয়ন্ত্রক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি এজিআর এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মতো কাঠামোগত বোঝার যৌক্তিকীকরণ ও 'গতিশক্তি সঞ্চার' পোর্টালের মাধ্যমে 'রাইট অব ওয়ে' অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও দ্রুততর করা হয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, 'ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন'-এর হাত ধরে ভারতে ইতিমধ্যেই পাঁচটি স্থানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে গোটা সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার সংকল্প পূরণে উন্নয়ন ও প্রযুক্তির এই প্রসার নির‍বিচ্ছিন্নভাবে চলবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

একই সঙ্গে ডিজিটাল ও টেলিকম সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ক্রমবর্ধমান 'ডিপফেক' এবং সাইবার প্রতারণাকে গুরুতর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি একটি আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ফোন ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা আমাদের সকলের অগ্রাধিকার। ডিপফেকের মতো সংকট রুখতে একটি কার্যকর গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক জরুরি, যেখানে সরকার, প্রযুক্তি সংস্থা, টেলিকম অপারেটর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

প্রতারণা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই তা রুখে দিতে জিএসএমএ এবং বিশ্বজুড়ে টেলিকম অপারেটরদের সমন্বিত বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আর্জি জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার ও ডিজিটাল সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিজস্ব বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ভারত বিশ্বমঞ্চে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। টেলিকম ক্ষেত্রের পরিকাঠামোগত সংস্কারের সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেলিকম ক্ষেত্রকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত সংস্কার সাধন করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে পরিকাঠামোর ব্যাপক বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য টেলিকম হার্ডওয়্যার যাতে ভারতের মাটিতেই তৈরি হয়, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই আজ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল ফোন এবং ডেটার প্রাপ্যতা অত্যন্ত সহজলভ্য ও সাধ্যের মধ্যে চলে এসেছে। এটি ভারতের সাধারণ নাগরিকদের ‘ইজ অফ লিভিং’ বা জীবনযাত্রার মানকে আরও উন্নত ও সহজ করে তুলেছে।

ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত দিনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে শুধু সামর্থ্যবানরাই আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছিলেন। সেই অচলাবস্থা ভেঙে প্রযুক্তিকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিয়ে তার সার্বিক গণতন্ত্রীকরণ নিশ্চিত করেছে ভারত। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষকে মূলস্রোতে আনাই এই রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

You might also like!