Breaking News
 
Kolkata High Court to CPIM: পুজোয় বুকস্টল বসানো নিয়ে বামেদের মামলা, দুর্গাপুজোর আগে শুনানিতে নারাজ হাই কোর্ট Anti-CEC row: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রাহুলের পিটিশন, ‘রাষ্ট্রপতি প্রমাণ চাইতেই পালিয়েছেন’, তোপ বিজেপির CM Suvendu Adhikari: রাজস্ব আদায়ে নতুন নজিরের দাবি শুভেন্দুর, উপনির্বাচনে জয়ের পর হুমায়ুনকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর Houthi Strike Saudi Arabia | আগুনে জ্বলছে রিয়াধ বিমানবন্দর, হাউথি হামলায় মৃত ১৩, বিপদের মুখে দাম্মামও India protest: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সুপ্রিম অভিযান, রাহুল-মমতার কর্মসূচিকে নিশানা বিজেপির West Bengal Police: ‘পুলিশের সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশকেও ছাপাবে বাংলা’, ১১ হাজার নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর

 

Editorial

52 minutes ago

The AI challenge: এআই প্রযুক্তির হাত ধরেই কি নতুন গতিতে এগোবে ভারতের অর্থনীতি?

The AI challenge
The AI challenge

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রশাসন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কাজের গতি বাড়াতে এবং উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে পারে। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যা ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির দেশে এআইয়ের কার্যকর প্রয়োগ উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দিতে পারে। তবে প্রযুক্তি গ্রহণ করাই শেষ কথা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এই প্রযুক্তির সুফল কতটা পৌঁছচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে প্রকৃত অর্থনৈতিক সাফল্য। 

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেই কি বাড়বে উৎপাদনশীলতা?

এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল আগ্রহ এবং বিনিয়োগ তৈরি হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির মডেল নির্মাণে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কিন্তু অর্থনীতির বাস্তব উন্নয়নের জন্য শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সেই প্রযুক্তিকে দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে হবে। ভারতের সামনে এই জায়গাতেই রয়েছে বড় সুযোগ। দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো, অনলাইন পরিষেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার বিস্তার এআইয়ের ব্যবহারকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। সরকারি পরিষেবা থেকে বেসরকারি সংস্থার কাজ, সর্বত্র প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ হলে সময় ও খরচ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং পরিষেবার মান উন্নত করার সুযোগও তৈরি হবে। তবে এআই ব্যবহার করলেই যে প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রযুক্তিকে কার্যকর করে তুলতে উপযুক্ত পরিকল্পনা, প্রশিক্ষিত কর্মী, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দরকার। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সাফল্যকে বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা—

ভারতের মতো দেশে এআইয়ের গুরুত্ব শুধু বড় শিল্প বা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগ শনাক্তকরণ এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে এই প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। এর ফলে কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হতে পারে এবং উৎপাদন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকল্পনায় এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একইভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদানের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষার উপকরণ তৈরিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।

বিশেষত ভারতের বহুভাষিক সমাজে স্থানীয় ভাষায় এআই পরিষেবা তৈরি করা জরুরি। ইংরেজি জানা বা উন্নত ডিজিটাল সুবিধা থাকা মানুষের মধ্যেই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না। গ্রামীণ এলাকার মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করে তোলাও তাই গুরুত্বপূর্ণ। 

এআইয়ের সুফল কি সীমাবদ্ধ থাকবে বড় সংস্থার মধ্যেই?

এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে একটি বড় প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই প্রযুক্তি থেকে উৎপন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা কি অল্প কয়েকটি বড় সংস্থা ও দেশের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকবে, নাকি তার সুফল সমাজের বিস্তৃত অংশে পৌঁছবে?

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অর্থ, দক্ষ কর্মী এবং পরিকাঠামো প্রয়োজন। ফলে বড় সংস্থাগুলি দ্রুত এগিয়ে গেলেও ছোট ব্যবসা ও সীমিত সম্পদের প্রতিষ্ঠানগুলি পিছিয়ে পড়তে পারে। এই ব্যবধান কমাতে প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

পাশাপাশি কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। এআই কিছু কাজকে স্বয়ংক্রিয় করে তুলতে পারে, আবার নতুন ধরনের কাজের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের প্রস্তুত করা এবং কাজের জগতে পরিবর্তনের প্রভাব সামলানো জরুরি।


পরীক্ষামূলক সাফল্য থেকে দেশজুড়ে প্রয়োগ—

ভারতের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হল এআইয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য উন্নয়নে রূপান্তরিত করা। ছোট পরিসরে সফল কোনও প্রকল্পকে বৃহত্তর ক্ষেত্রে প্রয়োগের আগে তার কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি উপকার দিচ্ছে, কোথায় খরচ কমছে এবং সাধারণ মানুষের কী সুবিধা হচ্ছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার।

ভারত ইতিমধ্যেই ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এআইকে বাস্তব সমস্যার সমাধানের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে এর জন্য সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ভারতের এআই-যাত্রার সাফল্য শুধু কত উন্নত প্রযুক্তি তৈরি হল, তার উপর নির্ভর করবে না। বরং প্রযুক্তি কতটা মানুষের কাজে লাগল, উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ল এবং উন্নয়নের সুফল কতটা বিস্তৃতভাবে ভাগ করে নেওয়া গেল, সেটাই হবে আসল মাপকাঠি। এআইকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন গতি আসতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির উপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

You might also like!