
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এক দিনের ব্যবধানেই ফের রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা, আগুন ও প্রাণহানিতে চরম উদ্বেগ সৌদি আরবে। ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীদের হামলার পর শনিবারের ভয়াবহ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। এর পর রবিবার ফের বিমানবন্দরের টার্মিনালে আছড়ে পড়ে একটি প্রজেক্টাইল, তাতেও মৃত্যু ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। শুধু রিয়াধ নয়, দাম্মাম বিমানবন্দরের আশপাশেও হামলার খবর জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। একের পর এক হামলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাতপরিচয় বস্তু এসে আছড়ে পড়ে। বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। পরমুহূর্তেই একটি ক্রুজ মিসাইল বিমানবন্দরের দিকে উড়ে আসতে দেখা যায়। যদিও মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয় সেটিকে। এছাড়া খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন এবং ব্যালেস্টিক মিসাইলও রুখে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে গতকাল রাত ৮টা নাগাদ দাম্মামে কিং ফাহদ বিমানবন্দরের রানওয়েতেও একটি মিসাইল আছড়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলার জেরে বিমানবন্দরের একাংশে আগুন জ্বলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের সেখান থেকে বের করে খালি করে দেওয়া হয় বিমানবন্দর। ভয়ংকর এই হামলার দায় স্বীকার হয়েছে হাউথিরা। দাবি করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদির তরফে ১২৪টি জায়গায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এরই পালটা এই হামলা। হুঁশিয়ারির সুরে আরও জানানো হয়েছে, ইয়েমেনে হামলা বন্ধ না করলে সৌদিকে এর ভয়ংকর মূল্য চোকাতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সৌদির রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল হাউথি। এই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। ভয়ংকর সেই হামলার ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইসলামের দুটি পবিত্র তীর্থস্থানে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাত্রীরা। পর মুহূর্তে ব্যাপক বিস্ফোরণ হয়। বিরাট উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি। বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। ফুটেজে ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়তেও দেখা যায়। সেই হামলায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবমিলিয়ে ১৩ মৃত্যুর পাশাপাশি হামলায় আরও ৩৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। যাদের অনেকেই ভারতীয়।
