West Bengal

49 minutes ago

Suvendu Adhikari at Maldah: গঙ্গার গ্রাসে সর্বস্বান্ত ভুতনি, পুজোর আগেই দুর্গতদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, মিলবে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান

Chief Minister and Suvendu Adhikari on the dais at the Malda meeting
Chief Minister and Suvendu Adhikari on the dais at the Malda meeting

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু জল আর জল। চাষের জমি থেকে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়, গঙ্গার ভয়াল গ্রাসে কার্যত সর্বস্ব হারিয়েছেন মালদহের ভুতনির বহু মানুষ। এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন কাতারে কাতারে পরিবার। কারও ঠাঁই হয়েছে ত্রাণশিবিরে, আবার সব হারিয়েও অনেকের জোটেনি সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও। অন্নের সংস্থান করাও এখন তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। একমুঠো চিঁড়ে-গুড়ের আশায় ডিঙি নৌকায় জলরাশি পেরিয়ে ছুটতে হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সকলকেই। গঙ্গার এমন ভয়াল রূপে রাতের ঘুম উড়েছে ভুতনির বাসিন্দাদের। বদলে যাচ্ছে এলাকার চেনা ভূগোল, পাল্টে যাচ্ছে বহু মানুষের জীবনযাত্রা। দুর্গাপুজো শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ। অথচ উৎসবের আমেজ থেকে যোজন দূরে বানভাসি ভুতনির মানুষ। যেখানে ন্যূনতম অন্ন, বস্ত্র এবং মাথা গোঁজার জায়গার ব্যবস্থা করাই প্রতিদিনের লড়াই, সেখানে পুজোর আনন্দ এখন তাঁদের কাছে অনেক দূরের বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে পুজোর আগেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। বানভাসি মালদহের দুর্গতদের জন্য ২৪২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  

ভাঙন বিধ্বস্ত মালদহে কর্মসূচিতে যোগদানের আগে রতুয়া থেকে হেলিকপ্টারে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। ২০ মিনিট আকাশপথে যাত্রার সময় সেখানকার ভয়াবহতা মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছেন বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। মালদহের মানিকচকে পৌঁছে দুর্গতদের উদ্দেশে সহানুভূতি জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই যন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি অঙ্গীকার দিয়ে যাব।” জেলাশাসকের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকের পর রতুয়া, মানিকচক, ইংরেজবাজারের দুরাবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, “মালদহে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ২৪ হাজার ৫৯৫ বাড়িগুলি মেরামতির জন্য পরিবার পিছু ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার ৩৪০ পরিবারের জন্য ৯০ হাজার টাকা করে দেবে সরকার।” সেইসঙ্গে পুজোর উপহার হিসেবে, ৫ হাজার পরিবারকে পোশাক, মশারি, খাদ্য সামগ্রী বিতরণের বন্দোবস্ত করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ২১ সরকারি ত্রাণশিবির থেকে ৫ দিন অন্তর ত্রাণ বিলির বন্দোবস্ত। ২৫ কমিউনিটি কিচেন থেকে দুর্গতদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা। এমনকী, গবাদি পশুদের জন্যও খাদ্য বিতরণ করা হবে সরকারের তরফে। 

মালদহে দাঁড়িয়ে বিগত সরকারকে বিঁধে শুভেন্দু বলেন, “গত ৫০ বছর ধরে কোনও সরকার আপনাদের জন্য় ভাবেনি। আপনাদের জলে পড়ে থাকতে দেব না। শুধু ভাষণ দিয়ে কাজ শেষ নয়। কাজের কাজ হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ মতো কথা কম, কাজ বেশিতে বিশ্বাসী।” মালদহের ভয়াবহ অবস্থার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, “গঙ্গাভাঙন প্রতিরোধে কাজ করবে সরকার। কানপুর আইআইটিকে দায়িত্ব দিয়েছি। ডিপিআর ফাইল সমাধান করে কাজ শুরু হবে।” কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩৩০০ কোটি টাকা প্রস্তাব জানানো হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মহালয়ার আগে ১ হাজার ২৪৮ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতির আশ্বাস দিয়ে যান তিনি। 

হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ নয়। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন প্রত্যেক ‘যোগ্য’রা। তথ্য দিয়ে নির্বাচনের সময় তৃণমূলের মিথ্যা প্রচারকে আবারও বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোটের সময় তৃণমূল বলেছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা মিলবে না। আমরা হিন্দু-মুসলিম বাছিনি। যাঁরা ঘর করেছেন তাঁদের সকলকে টাকা দিয়েছি।” তবে যাঁরা বেআইনি উপায়ে যোজনার নাম তুলেছেন তাঁদের সকলের থেকে টাকা আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নাবালিকা বিবাহ রোধে জনসাধারণের সাহায্য চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে কঠিন পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

তিনি বলেন, “গত সরকার ৬৭ হাজার ১১৩ জনকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল। আমরা ভেরিফিকেশনের পর ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়েছি। আপনাদের বলা হয়েছিল না, আগের সরকার বলেছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আবাসের টাকা মিলবে না। আমরা কোনও ভোদাভেদ করিনি। যাঁরা ঘর তৈরি করেছেন তাঁদের দিয়েছি।” পাশাপাশি যাঁরা অন্য উপায়ে ঘর পেয়েছেন তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টাকা ফেরত দিতে হবে। জেলেও যেতে হবে। ভাববেন না পাঁচ মাস পেরিয়ে গিয়েছি, ভুলে গিয়েছি। জেলের ভিতরে ঢোকাব।” মালদহ জেলাজুড়ে আরও ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২টি নতুন ঘর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি মালদহবাসীর কাছে নাবালিকা বিবাহ রোধের আবেদন জানান। বলেন, “আপনাদের থেকে দু’টি জিনিস চাইব। ১৮ বছরের আগে কোনও বোনের বিয়ে দেবেন না তো? ১২-১৪ বছরের মেয়েগুলো মা হচ্ছে। ভয়ংকর পরিস্থিতি। সমাজসংস্কার করতে হবে। ধর্ম পরিবর্তন করবেন না।” এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মালদহে আমার আমলে ধর্ম পরিবর্তন হলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”

You might also like!