
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুধু শখ নয়, বহু মানুষের কাছে এটি উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম। ইউটিউব-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করে ভালো আয় করছেন অসংখ্য ক্রিয়েটর। ফলে অনেকেই কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যেই ইউটিউবের একটি সিদ্ধান্ত নতুন ও পুরনো ক্রিয়েটরদের মধ্যে তৈরি করেছিল উদ্বেগ। কারণ, মনিটাইজেশনের লক্ষ্যমাত্রা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৮ হাজার ওয়াচআওয়ার করার কথা সামনে আসায় অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, এত বড় টার্গেট কীভাবে পূরণ করবেন তাঁরা। এবার ক্রিয়েটরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বদল আনছে ইউটিউব। বদল আসছে ভিডিওর ভিউ গণনার নিয়মেও।
ঠিক কী পরিবর্তন হচ্ছে? বর্তমানে ইউটিউব শর্টসের ক্ষেত্রে ফিডে কোনও ভিডিও সামনে এলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লে হয় এবং সেই অনুযায়ী ভিউ গণনা করা হয়। কিন্তু লং-ফর্ম বা বড় ভিডিওর ক্ষেত্রে দর্শককে সাধারণত ভিডিওতে ক্লিক করে সেটি চালাতে হয়। নির্দিষ্ট সময় ধরে ভিডিও দেখা হলে সেই ভিউ অ্যানালিটিক্সে প্রতিফলিত হয়। এবার এই ব্যবস্থাতেই পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে ইউটিউব। শর্টসের মতোই বড় ভিডিওর ক্ষেত্রেও ভিউ গণনার পদ্ধতিতে বদল আসতে চলেছে। ফলে ক্রিয়েটরদের কাছে ভিডিওর পারফরম্যান্সের হিসাব আরও সহজ ও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ২৪ আগস্ট থেকে সমস্ত ধরনের ভিডিওর ভিউ একই ধরনের পদ্ধতিতে হিসেব করার ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে নতুন ক্রিয়েটররা উপকৃত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ভিডিওর ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কনটেন্টের পারফরম্যান্স বোঝাও তুলনামূলক সহজ হবে।
উল্লেখ্য, এতদিন ইউটিউব মনিটাইজেশনের ক্ষেত্রে এক বছরে অর্থাৎ ৩৬৫ দিনে ৪০০০ ঘণ্টা ওয়াচটাইম পূরণের লক্ষ্য ছিল। নতুন নিয়মে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৮০০০ ঘণ্টা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শর্টস বা রিলসের ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। ৯০ দিনের মধ্যে ১০ মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ভিউয়ের পরিবর্তে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন অর্থাৎ ২ কোটি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে ইউটিউবের এই নতুন নিয়ম কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কতটা সুবিধা বা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।
